শ্রীপুরে শুটিংয়ের নামে নাট্যকর্মীকে ধর্ষণ আটক ১৮, জরিমানা আদায়

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:১৫ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে রিসোর্টে শুটিংয়ের কথা বলে এক মডেলকে (নাট্যকর্মী) ধর্ষণের ঘটনায় ওই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। তেলিহাটি ইউনিয়নের পেলাইদ গ্রামের রাস ওই রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে রবিবার তাদের আদালের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে রিসোর্ট পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম।

শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম বলেন, রিসোর্টের মালিককে পাওয়া যায়নি। পরে মালিকের অনুপস্থিতিতে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়। রিসোর্ট পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র না থাকায় রির্সোটকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) বলেন ওই মডেল দুজনের নামে মামলা করেছে। পরে নানা পরিস্তিতি বিবেচনা করে রির্সোটে অভিযান চালিয়ে কর্মকর্তাদের আটক করা হয়েছে। রির্সোটের বৈধ কাগজপত্রও ঝামেলা ছিল। মামলার আসামিরা ধরা না পড়লেও অন্যরা আটক হয়েছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে বেশি আলোচিত হওয়ায় ঘটনাটি বেশি জটিলতা তৈরি করেছে। ওই নারীর অভিযোগে ও বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি থাকলেও পরিস্থিতি আলাদা মোড় নিয়েছে।

শ্রীপুর মডেলে থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক জানান, নাট্যকর্মীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাদের (১৮ জন) আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ওই রিসোর্টের ব্যবস্থাপক, সহব্যবস্থাপক, কর্মীসহ দুজন নারী ও কয়েকজন খদ্দের আছেন। পুলিশি অভিযানের সময় সেখান থেকে বিদেশী মদ ও অন্যান্য মাদক উদ্ধার হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে গাজীপুরের শ্রীপুরে নাটকের শুটিংয়ের কথা বলে রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারী  বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মো. নাছির (৩৫) ও মো. বাবর (৩২) নামের দুজনের নাম উল্লেখ ও একজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ভুক্তভোগী ওই নারী মডেল হিসেবে কাজ করেন। তাকে জানানো হয়, নাছির নাটকের পরিচালক এবং বাবর তার সহযোগী। নাটকের শুটিংয়ের কথা বলে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার মিরপুর থেকে তাকে ওই রিসোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত দুইটার দিকে ভুক্তভোগীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে নাছির, বাবর ও অজ্ঞাতপরিচয় একজন পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরদিন বিকালে মারধর করে তাকে রিসোর্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়।

আসামিরা তার আইফোন কেড়ে নেন, যার মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত