মাদারীপুরে বজ্রপাতে বিদ্যুৎ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত: গ্রাহকের দুর্ভোগ ও নীতিমালার লঙ্ঘন

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৬ পিএম

সম্প্রতি, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের উত্তর ঝিকরহাটি এলাকায় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৮ দিন ধরে, সেই গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিসের নানা দপ্তরে ঘুরেও নতুন মিটার সংগ্রহ করতে পারছেন না। অফিসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মিটারটি পুনরায় বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে না, বরং গ্রাহককে মিটার কিনতে হবে। যদিও বিদ্যুৎ নীতিমালা অনুযায়ী, বজ্রপাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্রাহককে বিনামূল্যে নতুন মিটার সরবরাহ করার কথা। তবে বাস্তবে সেই নীতিমালা মানা হচ্ছে না। এই অনিয়মের ফলে, গ্রাহকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, তার ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে এবং তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ডের নীতিমালা রয়েছে, বৃষ্টি বা বজ্রপাতে মিটার পুড়ে গেলে, অবিলম্বে আপনার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে জানানোর পর তারা নিরাপদে মিটারটি খুলে নেবে। এরপর, বিদ্যুৎ বিলের কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে নতুন মিটার স্থাপনের জন্য আবেদন করতে হবে। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মিটার সাধারণত বিনামূল্যে পরিবর্তন করা হয়।

আরও বলা আছে বিনামূল্যে মিটার কখন দিবে: প্রাকৃতিক কারণে (যেমন বজ্রপাত) মিটার পুড়ে গেলে সাধারণত গ্রাহকের কাছ থেকে মিটারের নতুন মূল্য নেওয়া হয় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন বজ্রপাত বা ঝড়-বৃষ্টিতে মিটার পুড়ে গেলে তা গ্রাহকের ওপর বর্তায় না, তাই আপনাকে মিটারের মূল্য দিতে হবে না। এই ধরনের ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে আপনার বিদ্যুতের সংযোগে কোনো বাধা না আসে এবং নিরাপদভাবে সেবা অব্যাহত থাকে।

এব্যাপারে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সামিতির জুনিয়র ইঞ্চিনিয়ার আবু সুফিয়ান এবং সেই একটি নোট করে অফিসে জমা দিয়েছে তার একটি অনুলীপি গ্রাহকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে যেখানে লেখা রয়েছে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারনে মিটার ও সকেট পুড়ে যায়, সকেটের মূল্য বাবদ ৯ হাজার ১৫৬ টাকা ও ওয়ারিং রিপোর্ট প্রয়োজন এবং জমা নেওয়া যেতে পারে।

এবিষয় ফ্যাক্টরির মালিক আলম ঢালী জানান, আমার ফ্যাক্টরির বিদ্যুৎ সংযোগের মিটার গত ২২ তারিখ মঙ্গলবার রাতে বৃষ্টি ও বজ্রপাতে নষ্ট হয়ে গেলে ২৩ সেপ্টম্বর বুধবার সকালে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ  অফিসকে জানালে অফিস কর্তৃপক্ষ মিটার খুলে নিয়ে আসে এবং তারা প্রাথমিকভাবে জানান মিটারটি বৃষ্টি ও বজ্রপাতে নষ্ট বা পুড়ে যেতে পারে। তাই পরবর্তী সংযোগের জন্য নতুন মিটার বিনা মুল্যে দেওয়ার জন্য আবেদন করি তবে গত ৮দিন যাবত বিদ্যুৎ অফিসের নানা দপ্তরে ঘুরেও নতুন মিটার সংগ্রহ করতে পারছি না। অফিসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মিটারটি পুনরায় বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে না, বরং আমাকে মিটার কিনতে হবে।

তিনি জানান, যদিও বিদ্যুৎ নীতিমালা অনুযায়ী, বজ্রপাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্রাহককে বিনামূল্যে নতুন মিটার সরবরাহ করার কথা। তবে বাস্তবে সেই নীতিমালা মানা হচ্ছে না। এই অনিয়মের ফলে, আমার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, আমার ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে এবং আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

তিনি আর বলেন, বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাছে ঘুরে ডিজিএম স্যারের কাছে গেলে সে আমাকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলে দিলো বজ্রপাতে মিটার পুড়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে অফিস বিনা মূল্যে সেটা সরবরাহ করবে এরপর এজিএম ফাইনাসের কাছে পাঠালো আমি সেখানেও গেলাম এবং ডিজিএম স্যারের কথা বলার পরও বললো মিটার নতুন করে টাকা দিয়ে কিনে নিতে হবে। সে বলে একবার ফ্রি দেওয়া হয়েছে। আর দেওয়া হবে না। আমি হতাশ হয়ে ফিরে আসলাম।

মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মহম্মদ আব্দুল লতিফ জানান, বৃষ্টি ও বজ্রপাতে মিটার নষ্ট বা পুড়ে গেলে তিনি মিটার পূণরায় ফ্রি পাবেন। তিনি আরও বলেন একাধিকবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুড়ে বা নষ্ট হলেও গ্রাহক পুনরায় ফ্রি পাবে তাকে কোন মূল্য দিতে হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত