ভারত ও ভারতের বাইরে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত লরেন্স বিষ্ণোই ও তার দলকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা করেছে কানাডা। সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘোষণার কথা জানিয়েছেন কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দাসাঙ্গারী। খবর এনডিটিভির।
এর ফলে কানাডায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যে কোনো সম্পদ—নগদ টাকা থেকে শুরু করে গাড়ি বা জমি জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা যাবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আরও কঠোরভাবে তাদের বিচারের আওতায় আনতে পারবে, বিশেষ করে যারা সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্যদের কানাডায় প্রবেশও আটকানো যাবে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কানাডায় সহিংসতা ও সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। বিশেষ করে যেগুলো সুনির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ভয় দেখাতে ও আতঙ্ক তৈরি করতে করা হয়।
এনডিটিভি বলছে, দেশটির আইনে এখন থেকে কোনো কানাডীয় নাগরিক, এমনকি প্রবাসী কানাডীয়ও, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সম্পত্তি নিয়ে লেনদেন করতে পারবে না। আর এই সিদ্ধান্তকে ভারত-কানাডা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, জাস্টিন ট্রুডোর প্রধানমন্ত্রীত্বের শেষ মাসগুলোয় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে নেমেছিল। তবে কানাডা সরকার বহুবার বিষ্ণোই গ্যাংকে অপরাধী সিন্ডিকেট হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের জুনে প্রো-খালিস্তানি নেতা ও কানাডার নাগরিক হারদীপ সিং নিজ্জারের হত্যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্যাংটির পরিচিতি এনে দেয়। এ হত্যাকাণ্ড কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সূত্রপাত করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো সে সময় অভিযোগ করেছিলেন ভারত সরকার এতে সরাসরি জড়িত। ভারত এ অভিযোগ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং এটি খালিস্তানি ভোটব্যাংক ধরে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেয়।
