অনির্দিষ্টকালের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করল তালেবান!

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৩০ এএম

তালেবান সরকার আফগানিস্তানে দেশব্যাপী টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, এর ফলে পুরো দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে।

কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা শুরু করে তালেবান। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ ‌‌‘অশ্লীলতা রোধে’ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট টিভি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাবুল অফিসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে শরিয়াহ আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে তালেবান। এবার টেলিযোগাযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে তালেবান কর্মকর্তারা।

ব্যক্তিমালিকানাধীন আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচারে সমস্যা হতে পারে, তাই আপডেটের জন্য জনগণকে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে কাবুল বিমানবন্দর থেকেও ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যমতে, মঙ্গলবার অন্তত আটটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

কাবুলের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় ৯টা) ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্যাংকিং ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার সময় অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল থেকে জনগণ প্রকৃত সমস্যার মুখোমুখি হবে।

মাস্টোডনে নেটব্লকসের পোস্টে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান এখন সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে রয়েছে। সকাল থেকেই ধাপে ধাপে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। টেলিফোন সেবাও প্রভাবিত হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন প্রদেশের ব্যবহারকারীরা ধীরগতির ইন্টারনেট বা একেবারেই সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন। তালেবান বলেছিল, বিকল্প ইন্টারনেট রুট তৈরি করা হবে, তবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ব্যবসায়ীরা সতর্ক করেছিলেন, ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘ হলে তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আফগান সংবাদমাধ্যম ১টিভির সাবেক সম্পাদক হামিদ হায়দারি বলেছেন, এই ব্ল্যাকআউটের পর দেশজুড়ে এক ধরনের নিঃসঙ্গতা নেমে এসেছে। আফগানিস্তান এখন আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান দখল করেছে।

সাবেক সংসদ সদস্য মরিয়ম সোলাইমানখিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আফগানিস্তান থেকে অনলাইনে কোনো কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে না, আর এই নীরবতা ভয়াবহ।

এটি তালেবান সরকারের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা। এর আগে নারীদের লেখা বই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে মানবাধিকার ও যৌন হয়রানি সম্পর্কিত পাঠদানও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী ও মেয়েদের জন্য শিক্ষার সুযোগ ১২ বছর বয়সের পর থেকে বন্ধ। ২০২৪ সালের শেষ দিকে ধাত্রীবিদ্যা কোর্সও বাতিল করা হয়, যা ছিল নারীদের জন্য শেষ প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রগুলোর একটি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত