শ্রীমঙ্গলে কুমারী পূজা

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:০৭ পিএম

দুপুর ১২ টার দিকে কুমারী শিশুকে নতুন কাপড় পড়িয়ে দেবীর সাজে সজ্জিত করে কুমারী মন্দিরে বসানো হয়। সেখানে দেবীর পূজা শুরু করেন পুরোহিতরা। 

পূজা শেষে ভক্তবৃন্দের জন্য দেবীকে বসিয়ে রাখা হয়। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী তিথিতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। 

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও উপজেলার সাতগাঁও রঘুনাথপুর শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়িতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত  হয়। 

সকাল থেকে কুমারী পূজা দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শনার্থী ভীড় করেন এখানে। ৯ বছরের কুমারী শ্রুতি ভট্টাচার্য কে এবার দেবী দূর্গার অপরাজিতা রুপে পূজা করা হয়। 

শ্রুতি উপজেলার তপসীপাড়া গ্রামের শ্যামল ভট্টাচার্য ও শিবানী ভট্টাচার্য'র মেয়ে। সে জামসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী । 

আয়োজকরা জানান, কুমারী পূজা হচ্ছে দেবীর বাস্তব রুপের পূজা। ১ বছর থেকে ১৬ বছর বয়সের নারী শিশুকে দেবী রুপে পূজা করা হয়ে থাকে।  

প্রতিবছরই দেবীর আলাদা আলাদা নাম নিয়ে এই পূজা করা হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন কুমারী পূজার মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আরাধনা করলে তা পূর্ণ হয়।এই বছর ২৮তম আয়োজন তাদের।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা  থেকে কুমারী পূজা দেখতে আসা অন্যান্য চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা শ্রীমঙ্গল ঘুরতে এসে খবর পাই এখানে কুমারী পূজা হচ্ছে তাই চলে এসেছি। এর আগে কখনো কুমারী পূজা দেখা হয় নি তাই সুযোগ ছাড়ি নি।

শ্রীমঙ্গল দ্বারিকাপাল মহিলা কলেজের প্রভাষক অনিরুদ্ধ সেন গুপ্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, সনাতন ধর্মে নারীদের দেবী রুপে সম্মান জানিয়ে পূজা করে আসছে। তারই একটি অনুসঙ্গ হচ্ছে শারদীয় দুর্গা পূজার এই কুমারী পূজা। 

কুমারী পূজার মাধ্যমে আমরা সবাইকে একটি বার্তা পৌছে দিতে চাই যে, নারী কখনোই পিছনে থাকতে পারে না। নারীরা দেবী শক্তি, নারী অসুর বিনাশী, নারীরা জাগলেই পুরো বিশ্ব জাগবে এবং সমগ্র বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। 

সিলেট থেকে পূজা দেখতে এসেছেন সুমি ঘোষ।তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন,কুমারী মায়ের কাছে প্রণাম জানিয়েছি। মায়ের কাছে প্রার্থনা যেন সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে পারি। মঙ্গলময়ী মা যেন সকলের ভালো করেন।

শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ির সাধারণ  সম্পাদক রজত চক্রবর্তী  দেশ রূপান্তরকে বলেন, মানুষের মধ্যেই মা দূর্গা রয়েছেন, এই বোধটাকেই সাধারণ মানুষের প্রচার করার জন্য কুমারী পূজা শুরু করা হয়েছিলো। 

আমাদের শাস্ত্রে কুমারী পূজা করার নিয়মনীতি বলা আছে। কুমারীরা হচ্ছে পবিত্রতার প্রতিক। কুমারী পূজা করলে মা দুর্গারই পূজা করা হয়।

শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দ্বীপশিখা ধর বলেন,কুমারী পূজা হচ্ছে নারী জাতির প্রতীক।পুরাকালে কুমারীর মধ্যে মায়ের ভাব আরোপ করে সাধনা করা হত।সেই থেকে প্রচলিত হয়ে আসছে কুমারী পূজা। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত