ক্যান্সার আক্রান্ত হেফাজতে ইসলামীর নেতা মাওলানা ফারুকীর পাশে দাঁড়িয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী (প্রধান উপদেষ্টা, আমরা বিএনপি পরিবার), আতিকুর রহমান রুমন (আহবায়ক, আমরা বিএনপি পরিবার) ও কৃষিবিদ মোকছেদুল মমিন মিথুনের (সদস্য সচিব, আমরা বিএনপি পরিবার) নেতৃত্বে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ তার পাশে দাঁড়ায়।
হেফাজতে ইসলামীর সাবেক আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর একান্ত আস্থাভাজন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পক্ষ থেকে আজ তাকে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ দেওয়া হয় এবং সবসময় পূর্বের ন্যায় আলেমদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন, বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক ও আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই আজ আমি মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকীর পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আমরা জেনেছি সাধারণ সাধ্যমতো ভালোবাসা নিয়ে মাওলানা ফারুকীর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সুহৃদ কিছু ওলামায়ে কেরাম, লাবিব একাডেমি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা সালেহ আহমদ আজম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, সাংবাদিক মুফতি এনায়েতুল্লাহ, লেখক মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান এবং চিকিৎসা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব মুফতি রেজওয়ান রফিকী, লেখক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফারুক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে জিয়া পরিবার এবং এ দেশের আলেম-ওলামারা। ইসলামী দলসহ আওয়ামী মতের বিরুদ্ধে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। আওয়ামী নির্যাতনের সে নির্মমতার একটি উদাহরণ তরুণ আলেম মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকী।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে গত ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময় মিথ্যা ১৬টি মামলায় মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকী কারাভোগ করেন। তার একমাত্র অপরাধ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী হওয়া। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২৪ দিন রিমান্ডে অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং চিকিৎসাবিহীন টানা দেড় বছর কারাভোগ মাওলানা ফারুকীর জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা।
গ্রেফতারের পর নির্যাতনের চূড়ান্ত ধকলেই তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সার। ইতোপূর্বে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসকদের পাশাপাশি চেন্নাই সিএমসি হাসপাতালে প্রায় বছরখানেক চিকিৎসা নিয়েছেন। এই চিকিৎসার অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে তাকে চীনের গুয়াংজু হাসপাতালে অপারেশনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ অসুস্থ মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকীর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
