মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে প্রতারণা, ৬০৮ কোটি টাকা পাচার: ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:২০ পিএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা, হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা ও স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ৬০৮ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ৬ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সিআইডি। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাস (৫০), ওয়াহিদুজ্জামান (৫২), মো. গোলাম সারওয়ার আজাদ (৫১), মো. তরিকুল ইসলাম, রিপন ফকির (৪৯), রাজীব সরদার (৩৭) এবং উজ্জ্বল কুমার সাধু (৩৮)।

সিআইডি বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকের মাধ্যমে একজন মার্কিন নাগরিক প্রতারিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার বাংলাদেশ ও আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতামূলক যোগাযোগ সূত্র ধরে অনুসন্ধান কাজ শুরু করে সিআইডি। অনুসন্ধানে উঠে আসে মার্কিন নাগরিক ডেবোরাহ জন্সটন রামলো ডেবির সাথে এই প্রতারকচক্র বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে সখ্যতা গড়ে তোলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এই প্রতারকচক্র তাদেরকে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির পরিচয় দিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার ৩৫২ টাকা) আত্মসাৎ করে। অনুসন্ধানে উঠে আসে, এই অর্থ প্রতারকচক্র ছল-চাতুরী ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ভুক্তভোগী মার্কিন নাগরিককে বাধ্য করে যেন তিনি আমেরিকায় অবস্থিত বিভিন্ন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিকট এই আত্মসাৎকৃত অর্থ প্রেরণ করেন। অপরদিকে বাংলাদেশ হতে এসকল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিকট থেকে অভিযুক্তগণ তাদের বিভিন্ন নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ব্যাংক একাউন্টে টাকা গ্রহণ করে। অভিযুক্তগণ উক্ত সংঘবদ্ধ প্রতারণা ছাড়াও এভাবে দীর্ঘদিন ধরে হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এই সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনায় অভিযুক্তরা নামসর্বস্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলে দীর্ঘদিন ধরে বড় অংকের টাকা লেনদেন করে আসছে।

অনুসন্ধানে উঠে আসা এসকল প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে— আইনক্স ফ্যাশন, ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, জামান এন্টারপ্রাইজ ও নোহা এন্টারপ্রাইজ। তন্মধ্যে আইনক্স ফ্যাশন এর নামে ইউসিবিএলে ১টি ব্যাংক একাউন্ট, ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের নামে ঢাকা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংকে পৃথক ৪টি ব্যাংক একাউন্ট, জামান এন্টারপ্রাইজের নামে ব্র্যাক ব্যাংকে ১টি ব্যাংক একাউন্ট এবং নোহা এন্টারপ্রাইজের নামে সাউথ-ইস্ট ব্যাংকে ১টি ব্যাংক একাউন্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এসকল ব্যাংক একাউন্টে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়-বহিঃর্ভূত লেনদেনের রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও মামলায় অভিযুক্ত মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাস নামীয় একাউন্টেও অবৈধ লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন নাগরিকের প্রতারিত হওয়ার অভিযোগটির অনুসন্ধানকালে আরও উঠে আসে অভিযুক্তগণ স্বর্ণ চোরাচালান কারবারের সাথেও জড়িত। তারা বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য হতে আগত ব্যক্তিদের নিকট হতে ও ঢাকার তাঁতীবাজারসহ অন্যান্য স্থানের বিভিন্ন দোকান হতে ভাঙ্গারি স্বর্ণ সংগ্রহ করে তা গলিয়ে পাকা সোনার বার আকারে রূপান্তরিত করে দীর্ঘদিন ধরে পাচার করে আসছে। এসকল পাচারকৃত সোনার বার মূলত সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করে বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযুক্তরা মোট প্রায় ৬০৮ কোটি ৩৩, লাখ ৩০ হাজার ৩৭২ টাকা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করে ভোগ-বিলাস, অর্থ পাচারসহ নামে-বেনামে সম্পত্তির মালিক হয়েছে। যা স্পষ্টতই মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটনের আওতাভুক্ত। ফলশ্রুতিতে এ সংক্রান্তে ডিএমপি কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পূর্ণ রহস্য এবং অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিদের নাম-ঠিকানা উদঘাটন ও সনাক্তপূর্বক আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত