হত্যা মামলার আসামি দিচ্ছে পুলিশের চাকরি, গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে একজন খুনের মামলার আসামি রয়েছে। হত্যা মামলার আসামি গোপালগঞ্জের শাফায়েত হোসেন শেখ আত্মগোপনে থেকে দিচ্ছেন পুলিশের চাকরি।

বুধবার (১৭ জুন) রাজারবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গোপালগঞ্জের শাফায়েত হোসেন শেখ ও এনামুল হক আকবর। তাদের মধ্যে শাফায়েত নিজেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট হিসেবে পরিচয় দেন।

এ বিষয়ে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) জয়নুল আবেদীন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিরা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে বিভিন্ন ধাপে বাদ পড়া প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করত। পরে তারা ওই প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। চাকরি নিশ্চয়তার প্রলোভন দেখিয়ে চক্রটি প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করত।

এসএসপি জয়নুল আবেদীন বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা অর্জনের জন্য চক্রটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করত। তারা অগ্রিম অর্থ গ্রহণের পূর্বে নিজেদের ব্যাংক চেক জামানতের নিরাপত্তা হিসেবে প্রদান করত, যাতে ভুক্তভোগীরা প্রতারণার বিষয়টি সহজে বুঝতে না পারে। এক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা গ্রহণের উদ্দেশ্যে তারা যোগাযোগ করে এবং চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়। প্রার্থীর বিশ্বাস অর্জনের জন্য অভিযুক্ত শাফায়েত নিজের স্বাক্ষর করা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৫ লাখ টাকার একটি চেক দেন ওই ভুক্তভোগীকে। একই সঙ্গে চাকরির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা বলে তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসা হয়।

তিনি বলেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের একটি দল রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এলাকায় নজরদারি বাড়ায়। একপর্যায়ে প্রতারক চক্রটি চাকরিপ্রার্থীকে নিয়ে তথাকথিত মেডিকেল পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আসলে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪.৫ লাখ টাকা এবং চাকরিপ্রার্থীকে দেওয়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৫ লাখ টাকার স্বাক্ষরিত চেক জব্দ করা হয়।

এসএসপি জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, গ্রেপ্তার শাফায়েতের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট কী না যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং কোনো ভুক্তভোগী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার শাফায়েতের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণাসহ খুনের ঘটনায় ৩টি মামলা রয়েছে।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিআইডির মুখপাত্র বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান, সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকার ও অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত