পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে ভারত ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে যে অভিযোগ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার করছে, দেশটি তা প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল শুক্রবার দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল অভিযোগটি প্রত্যাখ্যানের কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বলেন, ভারত বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধনে একটি মহল খাগড়াছড়িতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তার এ মন্তব্যের প্রতি এক ভারতীয় সাংবাদিক দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘এ অভিযোগটি সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’
ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অক্ষম। এ বিষয়ে নিয়মিত অন্যের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা তাদের অভ্যাস।’
রণধীর জয়সওয়াল অন্তর্বর্তী সরকারকে পার্বত্য তিন জেলার বিষয়ে আত্মানুসন্ধান ও সেখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভূমি দখলের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার পরামর্শ দেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে মারমা জাতিগোষ্ঠীর এক কিশোরীকে দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর থেকে পার্বত্য জেলাগুলোয় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে সেখানে অবরোধ পালিত হয়। সেখানে যানবাহন চলাচল কয়েক দিন বন্ধ থাকে। গুইমারায় ১৪৪ ধারা ভেঙে সহিংসতায় জড়ায় অনেকে। গুলিতে তিনজন নিহত হয়। পুলিশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় শয়ন শীল নামের ১৯ বছর বয়সের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে।
সহিংসতার বিষয়ে পরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কিছু সন্ত্রাসী পাহাড়ের ওপর থেকে ফায়ার করেছে। অনেকে বাইরে থেকে এসেছে।