হাল ট্রিপ কেলেঙ্কারির অন্যতম কুশীলব ও সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ তাজবীর হাসানকে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ সংস্থার প্রচেষ্টায় আটক করা হয়েছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি লিখেছেন, দেশের নিরাপত্তা সংস্থাদের কার্যক্ষমতা নিয়ে আমরা প্রায়ই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করি। সম্ভবত সময় এসেছে তাঁদের তৎপরতার কিছুটা হলেও প্রশংসা করার।
তার পোস্ট অনুযায়ী, পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগী গত ২৪ সেপ্টেম্বর তুরস্কের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। ২০২০ সালে গ্রাহকদের শত-শত কোটি টাকা নিয়ে হঠাৎই উধাও হয়ে যায় হালট্রিপ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় অসংখ্য যাত্রী ও ট্রাভেল এজেন্সি।
জানুয়ারি ২০২০ সালে দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও অন্তত দুটি দেশের (তুরস্ক ও ভানুয়াতু) নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে মোহাম্মদ তাজবীর হাসান। এছাড়াও তার মাল্টার রেসিডেনসি এবং স্পেনের গোল্ডেন ভিসা রয়েছে বলে দাবি করেছে কয়েকটি সূত্র।
২০২০ সালে গ্রাহকদের শতশত কোটি টাকা মেরে দিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর পর মার্চ মাসে তাজবীর ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং দুবাইতে থিতু হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ফ্রন্ট কভার হিসেবে দুবাই, স্পেন, মাল্টায় বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সরকারী কর্মকর্তাকে ভানুয়াতু এবং তুরস্কের নাগরিকত্ব কিনতেও সহায়তা করে।
বর্তমানে এয়ারপোর্ট থানায় তাকে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আদালতে প্রেরণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সায়ের তার পোস্টে আশা প্রকাশ করেন যে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা এই অর্থনৈতিক অপরাধীর কাছ থেকে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
তিনি আরও লিখেছেন, যদি আপনি বা আপনার প্রতিষ্ঠান এই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান হালট্রিপের কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশনে উপস্থিত হয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিবেচনা করতে পারেন।
শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাসলিমা আক্তার সাংবাদিকদের কাছে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
