জামালপুরে ২০ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ১২:২০ পিএম

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় সৈয়দ হামদুজ্জামান বাবলুর পুকুর থেকে প্রভাবশালী বিজয়, হাবিবুল্লাহ মনিরসহ তাদের লোকজনের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) ভোরের দিকে ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের সৈয়দ হামদুজ্জামান বাবলুর পুকুর থেকে এ মাছ লোটের ঘটনা ঘটেছে। এ মাছ লোটের অভিযোগ করেন পুকুরের মালিক সৈয়দ হামদুজ্জামান বাবলু। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিজয়, হাবিবুল্লাহ, মনির, ডিপজল, হুমায়ুন কবীর, কটুসহ তাদের শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ জেলে নিয়ে এসে পুকুরে জাল ফেলে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে।

এ নিয়ে সৈয়দ হামদুজ্জামান বাবলুর কর্মচারী ও পুকুরের তত্ত্বাবধায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ী সৈয়দ হামদুজ্জামান বাবলু ৫০ বছর ধরে তার পুকুরে মাছ চাষ করে আসছে। সৈয়দ বাবলু বিগত সরকারের ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হয়েছেন। পুকুর লুট, হামলা, মামলা দিয়ে তাকে নির্যাতন ও হয়রানী করা হয়েছে। তাকে এমন নির্যাতন ও হয়রানী করা হয়েছে যা দেশের আর কোথায় হয়নি। ওই লোকজনগুলোই গত ৫ আগস্টের পর খোলস পাল্টিয়ে আবারো নির্যাতন ও লুটপাট শুরু করেছে। শনিবার রাত ১২টার দিকে বিজয়, হাবিবুলল্লাহ ও মনিরের নেতৃত্বে তাদের শতাধিক লোকজন পুকুরে মাছ মারা শুরু করে। রাত ৩টা পর্যন্ত মাছ মারে। এ মাছ গুলোকে ৪টি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে প্রায় শতাধিক অস্ত্রধারী লোকজন ছিল। আমরা বাঁধা দিতে গেলে আমাদের রাম দা, রড, লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করে। প্রাণ বাঁচাতে আমরা পালিয়ে যাই। পরে ৯৯৯ এ ফোন দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যায়। 

নারী কর্মচারী সখিনা বেগম বলেন, কালকে রাতে ৫০ মণ মাছ মেরে নিয়েছে। প্রতিটি মাছ ৫ কেজি ১০ কেজি ওজনের মাছ ছিল। আমরা খবর পেয়ে আসলে অস্ত্র নিয়ে দৌড়ানি দেয়। ওরা আমার ছেলে মমিনকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। ১৩ একর জমির উপর পুকুরে প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকার খাবার দিয়ে মাছগুলো বড় করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সৈয়দ হামদুজ্জামান বাবলু বলেন, আমার জমিতে মাছ, গরু ও ছাগলের খামার গত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতা-কর্মীদের রোষানলে পড়েছিল। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কোটি কোটি টাকার মাছ, গরু-ছাগল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি মির্জা আজম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী, তার ভাগিনা মহসীন, মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান, বিজয় ও হাবিবুল্লাহ সে সময়ে বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুট করেছে। তাদের প্রভাবে আইনগত কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এখন ৫ আগস্টের পর তারাই খোলস পাল্টিয়ে নতুন করে লুটপাট করছে। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিজয়ের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি কেটে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মনির বলেন, লীজ যারা নিয়েছেন তারাই পুকুরের মাছ মেরেছেন। তবে তার পাশ থেকে বিজয় ভাই মাছ মারছেন বলে একজন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সরাট বলেন, মাছ চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ নিয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত