বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে দুধকুমার, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল। এছাড়াও ১০টি পয়েন্টে তীব্র হয়েছে নদী-নদীর ভাঙন। তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের গ্রামীন সড়ক।
এ দিকে রবিবার (০৫ অক্টোবর) রাত থেকে সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় দুধকুমারের ভাঙনের কবলে পড়া অন্তত ৫০টি পরিবার বসত ভিটা হারিয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরও শত শত পরিবার।
একই পরিস্থিতি ভাঙন কবলিত অন্যান্য পয়েন্টেরও। এ অবস্থা চলতে থাকলেও ভাঙ্গনরোধে কোন পদক্ষেপ নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ভাঙনরোধে কোনো সমাধান পাননি তারা। এ কারণে ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন তারা।
সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার লেবু মিয়া বলেন, একদিনে দুধকুমারের ভাঙনে গ্রামের ৫০টি পরিবার হারিয়েছে তাদের বসতবাড়ি। এখনও হুমকিতে অসংখ্য পরিবার। এখনই ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই এলাকার বড় ক্ষতি হবে যাবে।
সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, একদিনে পানি বৃদ্ধিতে আমার দুই বিঘা জমির আমন আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি তাড়াতাড়ি নেমে যায় তাহলে ক্ষতি কম হতে পারে। আর যদি ৫-৬ দিন থাকে তাহলে সব নষ্ট হয়ে যাবে। এতে আমি ক্ষতির মুখে পড়বো।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানের ঢলে রবিবার রাত থেকে দুধকুমার ও ধরলার বেশ কিছু পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও আগামী আরও দুই দিন এসব নদ নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
