নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তক্কারমাঠ এলাকায় প্লাস্টিকের ড্রামে ভরা অবস্থায় উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহত ব্যাক্তির নাম মো. নয়ন (৪৯)।
নিহতের লাশ উদ্ধারের ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা (৪০) তার দুই মেয়ে সুমনা (২০), সানজিদা (১৮) ও পরকিয়া প্রেমিক রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল সহ (৪৫) চয়ন (৪০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে স্ত্রীর দেখানো জায়গা থেকে নয়নের বিচ্ছিন্নকৃত দুটি পা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লার তক্কার মাঠ-নন্দলালপুর সড়কের দক্ষিন পাশে অবস্থিত মাওয়া মার্কেটের পেছনের ঝোপ থেকে নীল রঙের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।
এসময় সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পিবিআইয়ের টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এবং পরিচয় শনাক্তের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়। উদ্ধার হওয়া লাশটির দু’পা হাটু থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
রাসেলের স্বীকারোক্তি মতে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জালকুড়ি দশ পাইপ এলাকা থেকে সাবিনা, তার দুই মেয়ে সুমনা,সানজিদা ও পরকিয়া প্রেমিক রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেলসহ চয়নকে গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, নিহত নয়ন ফতুল্লার ননন্দলালপুর এলাকার মো. সালামের ছেলে। পেশায় মাদক কারবারি নয়ন একটি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আড়াই বছর কারাভোগের পর গত ৮-১০দিন আগে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।
এদিকে ঐ ঘটনায় গ্রেপ্তার রাসেলের সঙ্গে নিহত নয়নের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনার পরকীয়া প্রেম ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। ঐ ঘটনার জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়নের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, গাড়ি ছিনতাইসহ নানা অপরাধে ৮-১০টি মামলা রয়েছে। ৩-৪ বছর আগে নয়ন হেরোইনসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। ঐ মামলায় নয়নের যাবজ্জীবন সাজা হয়।
নিহত নয়নের প্রথম স্ত্রী সাহিদা ফতুল্লার পিলকুনি এলাকার বাসিন্দা এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা ফতুল্লার ব্যাংক কলোনি এলাকায় বসবাস করেন। ৪-৫ বছর আগে নয়ন সাবিনাকে বিয়ের পর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার দূরত্ব বেড়ে যায়। নয়নের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনার বিরুদ্ধে পতিতাবৃত্তি এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে নয়ন কারাগারে যাওয়ার পর সাবিনার সঙ্গে রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল নামে অপর এক মাদক কারবারির পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনার বাসায় উঠে নয়ন। পরকিয়ার ঘটনাটি জানতে পারে নয়ন। এ নিয়ে সাবিনার সঙ্গে নয়নের সম্পর্কের অবণতি ঘটে। তখন সাবিনা তার দুই মেয়ে ও রাসেল নয়নকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরে লোক ভাড়া করে নয়নকে হত্যা করে। লাশ গুমের জন্য ড্রামে ভরতে সমস্যা হওয়ায় লাশের দু’পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে লাশ পলিথিনে মুড়িয়ে ড্রামে ভরা হয়। পরে সুযোগ বুঝে লাশটি রাতের বেলা মাওয়া মার্কেটের পেছনের ঝোপে ফেলে দেওয়া হয় বলেও পুলিশ প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার এসআই রেহানুল ইসলাম বলেন, ঝোপের ভেতরে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ড্রাম এবং এর ভেতর থেকে পঁচা গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রামের মুখ খুলে পলিথিনে মোড়ানো লাশ উদ্ধার করে। তবে লাশের দু’পা ছিল না। পরে পুলিশ নিহতের স্ত্রীর দেখানো মতে বিচ্ছিন্ন পা দু’টি উদ্ধার করেছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, উদ্ধার হওয়া লাশটি মাদক ব্যবসায়ি নয়নের। তিনি গত ৮-১০ দিন আগে জামিনে মুক্ত হয়ে এসে হত্যার শিকার হন।
