রঙিন মাছে জীবন রঙিন ইয়াছিন আলীর

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০১:২৩ পিএম

দিনাজপুরের কর্ণাই হাজীপাড়ার গ্রামের ইয়াছিন আলী রাকিব। ২০১৯ সালে রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন। সেই রঙিন মাছ আজ তার জীবন রঙিন করে তুলেছে। মাত্র ৩৬০ টাকার দিয়ে রঙিন মাছ চাষ শুরু করলেও বর্তমানে তার ব্যবসা লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে। রঙিন মাছ শুধু তারই জীবন রঙিন করেনি, তার পাশাপাশ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য যুবকের জীবন রঙিন করে তুলছে।

ছোট পরিসরে রঙিন মাছ চাষ শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ চাষ হচ্ছে। ইয়াছিন আলীর খামারে উৎপাদিত রঙিন মাছ যাচ্ছে দেশের ৬৪টি জেলায়।

ছোট-বড় হাউজে বড় হচ্ছে রঙিন মাছ। ছবি: প্রতিনিধি

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট বড় হাউজে মধ্যে রঙিন মাছ চাষের কাজ চলছে। বর্তমানে তার খামারে গাপ্পি, মলি, প্লাটি, সরটেইল, জেব্রা, কই কার্প, অ্যাঞ্জেল, টাইগার বার্ব, গ্রীন বার্ব, টেট্রা, টাইগার সার্ক, ব্লাকমর, রেড কেপ, গোল্ড ফিস, পেরোট ও এলগি জাতের মাছ রয়েছে। মাছের পরিচর্যার পাশাপাশি বিক্রির কার্যক্রম চলে। অনেক দূর দুরান্ত থেকে রঙিন মাছ দেখতে আসেন তার খামারে। পাশাপাশি সৌখিনভাবে পালনের জন্য রঙিন মাছ কিনে নিয়ে যান।

ইয়াছিন আলী রাকিব বলেন, আমার খামারে কার্যক্রম দেখতে অনেকে আসে এবং উদ্বুদ্ধ হয়। অনেকে এই কার্যক্রম নিজে পরিচালনার জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমার খামারে বর্তমানে দুইজন যুবক কাজ করেন। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে আমার ৩০ হাজার লাভ হয়। আমার কাছ থেকে সারা দেশের খুচরা ব্যবসায়ীরা মাছ নিয়ে যান। বর্তমানে খামারে ৬ লাখ টাকার মাছ রয়েছে।

নিজ খামারে মাছ পরিচর্যা করেছেন ইয়াছিন আলী। ছবি: প্রতিনিধি

তিনি বলেন, এই খামার করার পর দুটি কোম্পারিতে চাকরি পাই। কিন্তু সেগুলোর থেকে আমাকে মনে হয়েছে এই খামারেই আমি সফল হতে পারবো। তাই চাকরি ছেড়ে দিয়ে এই খামারে মনোযোগী হয়েছি। তাই আমি বলবো শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে একজন সফল উদ্যোক্ত হওয়া সম্ভব।

খামার পরিচর্যাকারী সাব্বির ইসলাম বলেন, আমি এই ফার্মে মাছ দেখাশুনা ও পরিচর্যার কাজ করি। রঙিন মাছ পরিচর্যা করতে ভালো লাগে। আমিও ভাইয়ের মতো খামার করতে চাই।

খামারের একটি হাউজে গোল্ড ফিস চাষ হচ্ছে। ছবি: প্রতিনিধি

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মানাফ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি আমিসহ ৭ জন শিক্ষার্থী ইয়াসিন ভাইয়ের কাছ থেকে রঙিন মাছ কিনে নিয়ে বিক্রি করি। ভাই মাছ কেনার সময় আমাদের কাছে টাকা নেয় না। মাছ বিক্রি করে পরে সেই টাকা দেই। এতে বিনা পুঁজিতে আমরা ব্যবসা করতে পারি। রঙিন মাছ বিক্রি করে আমাদের পকেট খরচের টাকা উঠে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত