ফেসবুক-গুগলের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের মামলা

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২৩ এএম

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভয়াবহভাবে আসক্ত করার অভিযোগে এবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। সিটি প্রশাসনের দাবি, ফেসবুক, গুগল, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো মুনাফার জন্য ছোটদের মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করছে এবং গোটা শহরে একটি বড় স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করেছে।

বুধবার (নিউইয়র্ক সময়) ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা, গুগল-ইউটিউবের মালিক অ্যালফাবেট, স্ন্যাপচ্যাটের মালিক স্ন্যাপ এবং টিকটকের মালিক বাইটড্যান্সের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটি বলছে, এই কোম্পানিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে তাদের অ্যাপস তৈরি করেছে, যা ছোটদের মনস্তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে তাদের সারাক্ষণ ফোন দেখতে বাধ্য করে। এর ফলে শিশুদের জীবনে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে:-

ঘুম কম, স্কুলে অনুপস্থিতি: মামলায় বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের হাইস্কুলের প্রায় ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী (আর মেয়েদের মধ্যে ৮২ শতাংশেরও বেশি) দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিন টাইমে কাটায়। এর ফলে তাদের ঘুম কমে যাচ্ছে এবং তারা নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে না।

বিপজ্জনক খেলা: সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে ছোটরা বিপজ্জনক খেলায় উৎসাহ পাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো চলন্ত ট্রেনের উপরে বা পাশে উঠে বিপজ্জনকভাবে ভ্রমণ করা, যাকে ‘সাবওয়ে সার্ফিং’ বলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গত দুই বছরে এই কাজ করতে গিয়ে অন্তত ১৬ জন শিশু-কিশোর মারা গেছে।

খরচের বোঝা: সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মানসিক স্বাস্থ্য সংকট সামলাতে তাদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জনগণের কর থেকে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তাই তারা এই কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সেই টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায় করতে চায়।

মামলা নিয়ে অভিযুক্ত বেশিরভাগ প্ল্যাটফর্ম এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গুগল ও ইউটিউবের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইউটিউবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘একেবারেই সত্যি নয়’, কারণ ইউটিউব কেবল ভিডিও দেখানোর প্ল্যাটফর্ম, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নয়।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি বর্তমানে সারা দেশের প্রায় ২,০৫০টি একই ধরনের মামলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত