যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী রবিবার (১২ অক্টোবর) মিশরে গাজা শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন এ চুক্তি এই অঞ্চলে ‘স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠা করবে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের সংসদ নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা তাকে আইনসভায় ভাষণ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ২০০৮ সালের পর এটিই হবে প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেসেটে ভাষণ।
গাজা চুক্তিটি আরব ও পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একে ট্রাম্পের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন। অনেকের মতে, এটি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে পুনর্মিলনের দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
চুক্তি প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা ও সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তারা জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং মন্ত্রিসভার সভায় অংশ নিয়ে চুক্তি অনুমোদনে ভূমিকা রাখেন।
এই চুক্তিকে ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গাজা সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা এই চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যুদ্ধবিরতির পর গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশন গঠন ও পুনর্গঠন সহায়তা নিয়ে আলোচনার জন্য পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে প্যারিসে বৈঠক করেছেন। সেখানে মানবিক সহায়তা ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
শান্তি চুক্তি অনুযায়ী গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় বেলা ১২টা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়। এদিকে, গাজার উত্তরাঞ্চলের দিকে ফিরতে শুরু করেছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরে স্বস্তি নেমেছে গাজায়। ইসরায়েলে উল্লাস করেছে জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। চলমান সংঘাতের মধ্যেও এই চুক্তিকে অনেকে এ অঞ্চলে শান্তির সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।
