কুমিল্লা, ১০ অক্টোবর — শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে কান্দিরপাড়ের পূবালী চত্বরে নেমেছিল মানুষের ঢল। হাজারো মানুষ একত্রিত হন এক সুরে উচ্চারণ করতে— *“আমরা কুমিল্লাবাসী, চাই কুমিল্লা বিভাগ।”*
‘বৃহত্তর কুমিল্লা কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ ব্যানারে আয়োজিত এই বিশাল জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি টিপু চৌধুরী। জেলার ১৭টি উপজেলা থেকে নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন সমাবেশে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন সভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা না হলে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “কুমিল্লা বিভাগ এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি।”
বক্তারা মনে করিয়ে দেন, প্রাচীন সমতট অঞ্চলের রাজধানী ছিল কুমিল্লা। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই কুমিল্লা একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। কিন্তু যুগের পর যুগ এ অঞ্চলের মানুষের বিভাগ দাবিটি উপেক্ষিত থেকেছে।
তাঁদের অভিযোগ, কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণার উদ্যোগ এলেই কিছু মহল ষড়যন্ত্রে নামে। অথচ বাস্তবতা হলো, বৃহত্তর কুমিল্লার ছয় জেলার আওতাধীন ৪২টি সরকারি দপ্তর ইতিমধ্যে কুমিল্লায় স্থাপন করা হয়েছে। তাই প্রশাসনিক কাঠামো, জনসংখ্যা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের ভিত্তিতে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা এখন সময়ের দাবি বলেই মত দেন বক্তারা।
তাঁরা আরও জোর দিয়ে বলেন, কুমিল্লা বিভাগের নাম অবশ্যই ‘কুমিল্লা’ হতে হবে। যেসব জেলা কুমিল্লার সঙ্গে থাকতে চায় না, তাদের বাদ দিয়েও বিভাগ গঠন সম্ভব। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ সকলে মিলে পূবালী চত্বরে তৈরি করেন উৎসবমুখর পরিবেশ। চারদিক মুখর হয়ে ওঠে স্লোগানে— “আমরা কুমিল্লাবাসী, চাই কুমিল্লা বিভাগ।”
দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবির প্রতি দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে অংশগ্রহণকারীরা এক কণ্ঠে বলেন, “এবার আর পিছু হটার সময় নয়, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করতেই হবে।”
