শরীর-মন দুই-ই একশো শতাংশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ সুস্থ। এতে দেখা গেছে, তার ‘হৃদযন্ত্রের বয়স’ তার প্রকৃত বয়সের চেয়ে ১৪ বছর কম।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি অবস্থিত ওয়াল্টার রিড সামরিক হাসপাতালে বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে এমনই তথ্য দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক শন বারবাবেলা।
জানুয়ারিতে শপথ নেওয়ার সময় ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট যিনি সর্বোচ্চ বয়সে এই দায়িত্ব পালন করছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে আসার পর বার্ষিক শারীরিক পরীক্ষায় ট্রাম্প। মার্কিন সেনার চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রেসিডেন্টের পরীক্ষা হয়। পরীক্ষা চলে টানা তিন ঘণ্টা। প্রেসিডেন্ট নিজেই তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রস্তাব দেন।
সব পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে নিয়ে শনিবার সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন ডাক্তার শন বারবাবেলা। তিনি জানান, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য ‘চমৎকার’। তাঁর উচ্চতা ছয় ফুট তিন ইঞ্চি। ওজন ১০২ কিলোগ্রাম। হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এতে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ও গলফ খেলার দক্ষতা উভয়েরই প্রশংসা করা হয়।
ট্রাম্প-সমর্থকদের দাবি, শত্রুদের মুখে ছাই দিয়ে এইভাবেই পুরো কার্যকাল কাটিয়ে দেবেন প্রেসিডেন্ট। এর আগে নানা মহল থেকে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছিল। তাঁর মানসিক সমস্যা রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। কিন্তু চিকিৎসকের রিপোর্ট বলছে, সব ঠিক আছে। তাঁর জ্ঞান টনটনে।
জুলাই মাসে হোয়াইট হাউস প্রকাশ করে যে ট্রাম্পের নিচের পায়ে ফোলাভাব এবং ডান হাতে রক্তজমাট দেখা দিয়েছে, এর আগে প্রেসিডেন্টের পায়ের গোড়ালি ফোলা এবং হাতের আক্রান্ত অংশ মেকআপ দিয়ে ঢাকতে দেখা গিয়েছিল।
ওই সময় হোয়াইট হাউস কর্তৃক প্রকাশিত এক চিঠিতে বারবাবাবেলা বলেন, পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে পায়ের সমস্যাটি ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’র কারণে হয়েছে, যা একটি সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে।
চিকিৎসক বলেন, ট্রাম্পের হাতে রক্তজমাট হওয়া ঘন ঘন হ্যান্ডশেক এবং অ্যাসপিরিন সেবনের কারণে সৃষ্ট সামান্য টিস্যু জ্বালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ট্রাম্প ‘মানসম্মত হৃদরোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা’র অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন।
