নৌবাহিনীর পাইওনিয়ার স্বীকৃতি দাবি কমান্ডোদের

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:০২ এএম

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কোনো নিয়মিত ফোর্স না থাকায় নৌ-কমান্ডোরাই নৌবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জনের পথ রচনা করেছেন। সেই ঐতিহাসিক অবদানকে সম্মান জানিয়ে নৌ-কমান্ডোদের বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পাইওনিয়ার ফোর্স হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডোরা। গতকাল শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডো অ্যাসোসিয়েশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

সংগঠনটির সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্টের ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ২৬টি জাহাজ ধ্বংস করে পাকিস্তানি বাহিনীর নৌ-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। বিজয় অর্জন পর্যন্ত প্রায় ১২৬ জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয় নৌ-কমান্ডোদের দুঃসাহসিক অভিযানে। এই অপারেশনকে কেন্দ্র করে ‘অপারেশন জ্যাকপট ডে’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে দিবসটি উদযাপনের দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশের অন্তত একটি যুদ্ধ জাহাজ ও একটি নৌ-ঘাঁটি নৌ-কমান্ডোদের নামে নামকরণের দাবিও জানান মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডোরা।

তারা আরও বলেন, নৌ-কমান্ডোদের জন্য ঢাকায় একটি স্থায়ী অফিস নির্মাণে সরকারি জমি বরাদ্দ দিতে হবে, যাতে চিকিৎসা ও অফিশিয়াল কাজে ঢাকায় আসা সদস্যরা সেবা নিতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সেক্টরটি গোপনীয় থাকায় এবং সিনিয়র কর্মকর্তার অভাবে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। খেতাবপ্রাপ্তিতেও তারা উপেক্ষিত। আজও তারা প্রচারবিমুখ ও অবহেলিত অবস্থায় রয়েছেন। অনেকেই চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের কারণে আসতে পারেননি। তবে তিনি লিখিত বার্তা পাঠিয়ে নৌ-কমান্ডোদের সাফল্য কামনা করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত