আজ শেখ হাসিনা-কামালের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক, হবে সরাসরি সম্প্রচার

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২২ এএম

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আজ রবিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হবে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, প্রথমে প্রসিকিউশন তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে। এরপর নিজেদের পক্ষে বক্তব্য রাখবে রাষ্ট্রনিযুক্ত ডিফেন্স আইনজীবীরা। সবশেষে প্রসিকিউশন যুক্তি খণ্ডন করবে। এই ধাপ শেষ হলে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখা হবে। তবে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি পেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গত ৮ অক্টোবর মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে তৃতীয় দিনের মতো জেরা শেষ করেন শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে নিয়োজিত রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেন।

দীর্ঘ ২৮ কার্যদিবসে মামলাটিতে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর ৩০ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন। তাঁর সাক্ষ্যে উঠে আসে, গত বছরের জুলাই আন্দোলন চলাকালে দেশের ৪১টি জেলায় ৪৩৮টি স্থানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং ৫০টিরও বেশি জেলায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যে আলমগীর যমুনা টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন ভিডিও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেন। এসব প্রতিবেদনে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহতা ও আন্দোলনের সময় তিন লাখ পাঁচ হাজার গুলি ছোড়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য শুরু হয় ২৮ সেপ্টেম্বর। সেদিন ট্রাইব্যুনালে তাঁর জব্দ করা ১৭টি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়, যেখানে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সহিংসতা ও নৃশংসতার চিত্র উঠে আসে।

এ মামলার ৩৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজ দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন। এ ছাড়া বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দিতে আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বীভৎস বর্ণনা উঠে এসেছে। শহীদ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা শেখ হাসিনা, কামালসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। প্রসিকিউশন তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে। মামলার অভিযোগপত্রটি মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার, যেখানে দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা তথ্যসূত্র, চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা জব্দতালিকা ও প্রমাণাদি এবং দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠায় শহীদদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মোট ৮১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে এই মামলায়। গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে মামলার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত