ভারতে এক বছরে ১০ হাজারের বেশি কৃষক-শ্রমিকের আত্মহত্যা 

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪৫ পিএম

ভারতের কৃষিক্ষেত্রে জড়িত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ গত এক বছরে আত্মহত্যা করেছেন— এমন তথ্য উঠে এসেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে।

সংস্থাটির ২০২৩ সালের বার্ষিক অপরাধ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছর কৃষক ও কৃষিশ্রমিক মিলিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মোট ১০ হাজার ৭৮৬ জন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬৯০ জন কৃষক এবং ৬ হাজার ৯৬ জন কৃষিশ্রমিক। এই সংখ্যা দেশের মোট আত্মহত্যার (১ লাখ ৭১ হাজার ৪১৮) প্রায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে— সংখ্যা ৪ হাজার ১৫১ জন, যা কৃষিক্ষেত্রের আত্মহত্যার প্রায় ৩৮ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে কর্নাটক (২ হাজার ৪২৩) ও অন্ধ্রপ্রদেশ (৯২৫)। এছাড়া মধ্যপ্রদেশে ৭৭৭ এবং তামিলনাড়ুতে ৬৩১ জন কৃষক ও কৃষিশ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে কৃষকদের আত্মহত্যার হার বেশি হলেও অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে কৃষিশ্রমিকদের আত্মহত্যার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

যদিও ২০২৩ সালে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। 

২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ২৯০ জন, অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে টানা দুই বছর মহারাষ্ট্র ও কর্নাটক শীর্ষে থাকায় বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কৃষিবিদদের মতে, ঋণের বোঝা, ফসলের অনিশ্চিত দাম, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির কারণে কৃষকেরা মানসিক চাপে থাকেন। 

বিশেষ করে আখ ও তুলোর মতো অর্থকরী ফসল চাষে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হয়, যা অনেক সময় লোকসানে পরিণত হয়। 

এতে মহাজনের সুদে নেওয়া ঋণ ফেরত দিতে না পেরে বহু কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

সরকারের বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্প যেমন ‘পিএম-কিসান’ বা কৃষিবীমা কিছুটা সহায়ক হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে কৃষকের জীবনমান বা মানসিক স্থিতি এখনো বড় পরিবর্তন দেখেনি।

এনসিআরবি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে কৃষিক্ষেত্রে কোনও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি এমন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে— পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, গোয়া, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, চণ্ডীগড়, দিল্লি ও লাক্ষাদ্বীপ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত