বিশেষজ্ঞদের মত

শিশুদের সুরক্ষায় নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০২:৫৩ পিএম

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের অধিক কার্যকর নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন চালু করা একটি বৈজ্ঞানিকভাবে যৌক্তিক ও প্রমাণভিত্তিক পদক্ষেপ হবে, যা বাংলাদেশের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যকে আরও টেকসই করবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) আইসিডিডিআর,বিতে এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা একথা বলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল বিদ্যমান নিউমোকক্কাল সেরোটাইপের বিরুদ্ধে টিকাদান পরবর্তী সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং নতুন সেরোটাইপের উদ্ভবজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা।

আইসিডিডিআর,বি এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) যৌথভাবে পরিচালিত একটি নিউমোকক্কাল সারভেইল্যান্স গবেষণার ধারাবাহিকতায় গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত গবেষণাটির ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রধান গবেষক, আইসিডিডিআর,বির সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. মো. জাকিউল হাসান। দেশের চারটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবা নিতে আসা শিশুদের মধ্যে পরিচালিত এই গবেষণায় স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এবং বিদ্যমান সেরোটাইপসমূহ সনাক্ত করা হয়।

যদিও বাংলাদেশে ২০১৫ সাল থেকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর মাধ্যমে পিসিভি-১০ ভ্যাকসিনটি সফলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু গবেষণাটির ফলাফল থেকে জানা যায়, প্রচলিত এই ভ্যাকসিনটি বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যমান অধিকাংশ নিউমোকক্কাল সেরোটাইপ থেকে শিশুদের পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে পারছে না। বিগত বছরগুলোতে পিসিভি—১০ ভ্যাকসিন কিছু নির্দিষ্ট সেরোটাইপজনিত অসুস্থতা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে বিদ্যমান সেরোটাইপের ধরণ। যার ফলে নতুন প্রজন্মের নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিনের মাধ্যমে সুরক্ষা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পিসিভি-১০ টিকাকে পিসিভি-১৩, পিসিভি-১৫ বা পিসিভি-২০ —তে উন্নীত করলে প্রচলিত নিউমোকক্কাল সেরোটাইপের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ১৭%, ১৯% ও ৫২% পর্যন্ত সুরক্ষা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা একমত হন যে, রোগের ধরনের পরিবর্তন অনুযায়ী টিকাদান কৌশলেরও পরিবর্তন প্রকৃতপক্ষে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও টিকাদান কর্মসূচীর সক্ষমতাকে প্রমাণ করে।

আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, নিউমোনিয়া এখনও সংক্রামক রোগে শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি নিউমোনিয়া প্রতিরোধে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর জোর দেন, যা জাতীয় টিকাদান কৌশল নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

গোলটেবিল বৈঠকটি পরিচালনা করেন আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র বিজ্ঞানী ও জাতীয় টিকাদান কারিগরি পরামর্শক দলের (নাইট্যাগ) সভাপতি ড. ফিরদৌসী কাদরী। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের অনেক দেশই তাদের টিকাদান কর্মসূচিতে অধিক কার্যকর নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন অন্তর্ভূক্ত করেছে, যা শিশুদের নিউমোকক্কাল রোগের বিরুদ্ধে আরও বেশি সুরক্ষা প্রদান করে।

বিশেষজ্ঞরা তাদের আলোচনায় বলেন, একটি সফল সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (পিসিভি—১০) পরে বিদ্যমান নিউমোকক্কাল সেরোটাইপের এই পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ঘটনা।

এর ব্যাখ্যায় তারা বলেন, টিকাদানের ফলে প্রচলিত পিসিভি-১০ ভ্যাকসিনে টার্গেটকৃত সেরোটাইপগুলো বর্তমানে রোগীদের মাঝে কম দেখা যায়। বর্তমানে বিশ্বে ৩৫টি দেশে পিসিভি-১০ ভ্যাকসিনটি ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। অপরদিকে ১৩০টি দেশে পিসিভি-১৩, এবং নতুন প্রজন্মের পিসিভি-১৫ ও পিসিভি-২০ যথাক্রমে ১৬ ও ৯টি দেশে চালু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত