জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য এবং রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার বলেছেন, জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়। দেশের একজন সরকার দুপুরের ভাত খাওয়া বাদ দিয়ে পালিয়ে পাশের দেশে চলে যেতে বাধ্য হয়। এই সব কিছুর মূলে রয়েছে কর্তৃত্ববাদী শাসন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনীতির নামে বিভাজন বা বিভক্তি চায় না। কোনো ব্যক্তি অধিকার ও মর্যাদার জন্য সে কোন দলের সেটা দেখা হবে না। সবার অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। তাই পিআর পদ্ধতি চালু হলে ফ্যাসিস্ট তৈরি হওয়া বন্ধ হবে৷ পিআর হলে কর্তৃত্ববাদীর রাজনীতি বন্ধ হবে। পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে গাইবান্ধা শহরের দারুল আমান ট্রাস্ট সম্মেলন কক্ষে জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিশেষ সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার আরও বলেন, অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু আমরা প্রতিহিংসায় যাব না। আগে যে তকমা বা ব্র্যান্ডিং এর রাজনীতি ছিল এটা বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। আমরা মনে করি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেক রক্তের বিনিময়ে তৈরি হয়েছে। তাই আমরা জনগণের স্বার্থে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন আদায় করে ছাড়ব। জামায়াতে ইসলামী মনে করে, অবশ্যই গণভোট হতে হবে এবং সেটা নভেম্বরের মাধ্যমে হতে হবে। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একইসাথে হলে বিড়ম্বনা হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া এ দেশের জনগণ নির্বাচন মানবে না বলে আমরা মনে করি ৷ গণভোট হলে ভবিষ্যতের রাজনীতি একটি নিশ্চিত পথ পাবে। গণতন্ত্র ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তি এক হয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাব। ৩১টি দলের মধ্যে ২৬টি দল পিআরের পক্ষে ঐক্যমত হয়েছে। তবে ২৬টির মধ্যে কেউ কেউ উচ্চকক্ষ বা কেউ নিম্নকক্ষ চেয়েছে। তবে সবাই পিআরের পক্ষে। বাংলাদেশের জনগণ আমাদের সাড়া দিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কথা বলেছে অনেকে। এখানে স্বতন্ত্রপ্রার্থীদেরও ব্যবস্থা রয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনে তালিকা দিতে পারে। এটার বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। তাই পিআর পদ্ধতির অপরিহার্যতা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান, গাইবান্ধা-০২ গাইবান্ধা সদর আসনের এমপি প্রার্থী আব্দুল করিম সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমর, গাইবান্ধা-০৫ ফুলছড়ি-সাঘাট আসনের এমপি প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান গাইবান্ধা-০১ সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহুরুল হক সরকার, সহকারী সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান ও গাইবান্ধা পৌর মেয়র প্রার্থী মো. ফয়সাল কবির রানা, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও গাইবান্ধা-০৩ সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম, জেলা ওলামা বিভাগীয় সেক্রেটারি মাওলানা সাইদুর রহমান, জেলা পেশাজীবী বিভাগীয় সেক্রেটারি খায়রুল আমীন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি নুরুন্নবী প্রধান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য জনাব সাইফুল ইসলাম মন্ডল, গাইবান্ধা পৌর আমীর ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক ফেরদৌস আলম ফিরোজ, সদর উপজেলা আমীর ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা নুরুল ইসলাম মন্ডল, ছাত্রশিবির গাইবান্ধা জেলা সভাপতি ফেরদৌস সরকার রুম্মান প্রমুখ।
