২৬ বছর পর বাপের বাড়িতে এসেই জামালপুর-৪ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রায়ত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের মেয়ে সালিমা তালুকদার আরুণি। তিনি দীর্ঘ সময় বাবার বাড়ি সরিষাবাড়িতে আসেননি অর্থাৎ বাবার কবর জিয়ারতেও কোনো দিন তাকে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
গত ৫ আগস্টের পর বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জন্য বাড়িতে এসেই প্রার্থীতা ঘোষণা করাকে ‘অতিথি প্রার্থী’ বলছেন স্থানীয় ভোটাররা। এ আসনের ভোটের মাঠে একেবারেই অপরিচিত মুখ তিনি।
দলীয় নেতা-কর্মী জানায়, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার ১৯৯৯ সালের ২০ আগস্ট মারা যান। এরপর থেকে প্রতিবছর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও কাঙালি ভোজ করে আসছেন। আর কবর মেরামতের কাজ করে আসছেন উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক শিল্পী নাদিম তালুকদার।
এই দীর্ঘ সময় ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের পরিবারের কাউকেই সরিষাবাড়িতে দেখা যায়নি। বিশেষ করে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের একমাত্র সন্তান আরুণি তালুকদারকে আমরা কখনোই সরিষাবাড়িতে দেখিনি। তাকে দলীয় বা তার বাবা আব্দুস সালাম তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতেও আসতে দেখিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রায়ত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের মেয়ে সালিমা তালুকদার আরুণি ও’ লেভেলে পড়াশোনা শেষ করেছেন। পরে তিনি ইন্টোরিয়র ডিজাইনের ওপর ডিপ্লোমা করেছেন। নোয়াখালী জেলায় তার বিয়ে হয় এবং পরিবার নিয়ে রাজধানী ঢাকার ডিওএইচএসে বসবাস করেন তিনি।
দলীয় নেতা-কর্মীরা জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরেও আসেননি আরুণি। ২৬ বছর পর চলতি বছরের ২০ আগস্টে বাবার মৃত্যুবার্ষিকীর দিন সরিষাবাড়িতে আসেন তিনি। এরপর তিনি নিজেকে বিএনপির এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ঘোষণা দেন। যদিও তিনি এখনও বেশিরভাগ সময় পার করছেন রাজধানী ঢাকাতে। জেলা বিএনপির সম্মেলনের দিন জামালপুরে আসেন। প্রার্থীতা ঘোষণার পর থেকে মাঝে মধ্যে শুক্রবার অথবা শনিবারে তাকে সরিষাবাড়িতে দেখা গেছে।
সরিষাবাড়ি উপজেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, ‘টানা ১৭ বছর আমরা হামলা, মামলার শিকার হয়েছি। পালিয়ে থেকেছি। তখন তাকে দেখিনি। তিনি বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে কবরটাও জিয়ারত করতে আসেনি। আমরা যাকে চিনি না, জানি না। যার দলের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই তিনি আজ এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী।’
সরিষাবাড়ি পৌর বিএনপির জহুরুল ইসলাম পিন্টু বলেন, ‘এমন ব্যক্তি এমপি হবেন, যিনি সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। হঠাৎ করে এসেই কি এমপি হওয়া যায়। আর তার সাথে যাদের আমরা দেখতে পাচ্ছি। তাদের অধিকাংশই বিএনপির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। তারা সুযোগ পেয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে।’
এ নিয়ে বিএনপির এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী সালিমা বেগম আরুণির মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি এসেছি, বাবার কবরও জিয়ারত করেছি। মাঝখানে কিছু দিনের একটি গ্যাপ হয়েছে। এখন আবার আসা শুরু করেছি, সামনেও আসব। এই অভিযোগটি সবার নয়, কিছু লোকের।’
