কিং আর হিটম্যানের ভুলে যাওয়ার মতো ফেরা

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৫২ পিএম

ক্যারিয়ারে এসেছে গোধূলি, হয়তো দ্রুতই ফুরিয়ে যাবে সমস্ত আলো। বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার ক্যারিয়ারের সেই সন্ধ্যাটা কেমন হবে- এটা নিয়েই গত কিছুদিন ধরে চায়ের টেবিল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে জল্পনা। কেউ কেউ তো বলেই দিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়া সফর দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানবেন ভারতীয় ক্রিকেটের এই দুই মহাতারকা। এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও খুশি হতে পারেনি ২০২৭ বিশ্বকাপ সামনে রেখে তারুণ্যের জয়গান গাওয়া ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তারা কড়াভাবেই প্রতিবাদ জানিয়েছে যে- কোহলি-রোহিতের গোধূলি যাপন এখনই শেষ হচ্ছে না। ওয়ানডে থেকে তাদেরকে ছেঁটে ফেলার কোনো চিন্তা বিসিসিআইয়ের নেই। তবে পার্থে প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ান গতির সামনে কোহলি-রোহিতের নড়বড়ে ব্যাটিং অন্য কিছুই বলে দিচ্ছে।

টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন আরও আগেই। দুজনেই জাতীয় দলের জার্সি সর্বশেষ পরেছিলেন গত মার্চে দুবাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে। ৭ মাস পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩৮ বছর বয়সী রোহিত শর্মা এবং ৩৬ বছর বয়সী বিরাট কোহলিকে খেলতে হচ্ছে হাঁটুর বয়সী শুবমান গিলের নেতৃত্বে। পার্থের মেঘলা আবহাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা দেখান গতি আর সুইংয়ের দুর্দান্ত প্রদর্শনী। শুরুটা হয় ১০ কেজি ওজন ঝরিয়ে জাতীয় দলে ফেরা রোহিতকে দিয়ে। ‘হিটম্যান’ খ্যাত এই ব্যাটার শুরুতে একটু সময় নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। দেখে মনে হচ্ছিল, আত্মবিশ্বাসের চরম অভাবে ভূগছেন। জস হ্যাজেলউডের একটু লাফিয়ে ওঠা বলে তিনি ম্যাট রেনশর হাতে ধরা পড়েন দ্বিতীয় স্লিপে। তার নামের পাশে তখন ১৪ বলে মাত্র ৮ রান।

রোহিত আউট হওয়ার পর ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রী বলছিলেন, ‘রোহিত বলের বাউন্স বুঝতে পারেনি। হ্যাজেলউডের বল পিচে পড়ে লাফিয়ে উঠেছিল, কিন্তু সেটা সামলে উঠতে পারেননি রোহিত। অস্ট্রেলিয়ায় এসে দুইদিন অনুশীলন করলেও তিনি হয়তো এখনো উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি।’ তবে শাস্ত্রী যতই রোহিতকে আগলে রাখার চেষ্টা করুন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে রোহিতের এটি ৩১তম ওয়ানডে ম্যাচ। তিন ফরম্যাট হিসেব করলে ৫৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। সুতরাং সেখানকার উইকেট তার অচেনা হওয়ার কোনো কারণ নেই।

অন্যদিকে ভারতের একসময়ের ‘রানমেশিন’ বিরাট কোহলি তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ৭ বল খেলে রান তুলতে না পেরেই হয়তো তিনি অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। এই সুযোগটাই কাজে লাগান মিচেল স্টার্ক। তিনি একটানা কোহলিকে অফ স্টাম্পের বাইরে বল করছিলেন। কোহলির মাঝেও যেন সেই পুরনো রোগ ফিরে আসছিল। তিনি স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট ছোঁয়ানোর চেষ্টা করছিলেন, যদিও আউট হয়েছেন ভিন্নভাবে। মিচেল স্টার্কের করা অফস্টাম্পের বেশ বাইরের ফুল লেন্থের একটি ডেলিভারিতে শরীর বেশ দূরে রেখেই তিনি ব্যাট চালিয়ে দেন। বল উড়ে যায় পয়েন্টের দিকে, কিছুটা শূন্যে ভেসে দারুণ ক্যাচ নেন কুপার কনোলি। ৮ বলে শূন্য রানে মাথা নিচু করে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা দেন ভারতের ব্যাটিং ‘কিং’।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩০টি ওয়ানডে খেলে এই প্রথমবার কোনো রান না করেই আউট হলেন কোহলি। এটা তার ২৭৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম ‘ডাক’। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে কোহলিকে দুইবার শূন্য রানে ফেরালেন স্টার্ক। এর আগে ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আউট হয়েছিলেন ৯ বলে শূন্য করে। সেটাই ওয়ানডেতে বেশি বল খেলে কোহলির শূন্য রানে আউট হওয়ার ঘটনা। বাস্তবতা হলো, একটি ম্যাচ দেখে কোহলি-রোহিতের ক্যারিয়ার নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা নেহাতই হাস্যকর হবে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দুজনে বারবার ফর্ম হারিয়েছেন, বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। অস্তগামী সূর্যকে উদিত করে উপহার দিয়েছেন ঝলমলে পারফর্মেন্স।

চলতি সিরিজে তারা আরও দুটি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। একইসঙ্গে সুযোগ পাচ্ছেন মলিন প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি ভুলিয়ে দেওয়ার। ভারতীয় নির্বাচকদের জন্যও সহজ হয়ে যাবে ২০২৭ বিশ্বকাপের আগাম পরিকল্পনা। তারপর কী হবে- সেটা হয়তো জানেন শুধু কোহলি আর রোহিতই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত