ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, শীর্ষে দাগনভূঞা

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:১৩ পিএম

ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ১০ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। গত সেপ্টেম্বরে ১২১ জন ও  অক্টোবর মাসে ১৯ দিনে ১৮৫ জন ডেঙ্গুর আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ফেনীর ছয় উপজেলায় ৩৮৬ ডেঙ্গুর রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে দাগনভূঞায়। সংখ্যা প্রায় ১৮৯ জন। জুন মাসে প্রথম ডেঙ্গুর রোগী শনাক্ত হয় ফেনী সদর উপজেলায়। জুলাই মাসে ফুলগাজী ছাড়া অন্য পাঁচ উপজেলায় ডেঙ্গুর ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে ফেনী সদর উপজেলায় ২৫ জন, দাগনভূঞায় এক রোগী শনাক্ত হয়। আগস্টে ফেনী সদর উপজেলায় ৪৬ জন ও দাগনভূঞায় ১৩ জন ডেঙ্গুর আক্রান্ত হন। সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা বেড়ে ফেনী সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ১০১ জন ও দাগনভূঞায় ৬৪ জনে পৌঁছায়। গত ২৪ ঘণ্টায় দাগনভুঞায় ৪ জন ডেঙ্গুর রোগী শনাক্ত হয়েছে। অন্য উপজেলায় শূন্যের কোঠায়।

এবারে ফেনীর দাগনভূঞায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঘরে-বাইরে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ জনপদের মানুষ। চলতি বছরের অক্টোবরের ১৯ তারিখ পর্যন্ত এ উপজেলায় ১৮৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। যা জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর ৫০ দশমিক ০৭ শতাংশ। এদিকে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী এ সংক্রমণে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুর রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৩ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে দাগনভূঞায় ১৮৯, ফেনী সদরে ১৪৪, ছাগলনাইয়ায় ২৩, সোনাগাজীতে ১৬, পরশুরামে ১৩ ও ফুলগাজীতে একজন রোগী রয়েছে। ১৬ অক্টোবর দাগনভূঞায় একদিনেই নতুন করে আরও ১৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এবিষয়ে দাগনভূঞায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন বলেন, এ উপজেলায় ডেঙ্গুর বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ঘনবসতি। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকার কারণে বাইরের এলাকা থেকেও ভাইরাস আসছে। আবার খাল-ডোবায় জলাবদ্ধতা, উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার কারণে এডিস মশার বিস্তার বেড়ে গেছে। এছাড়া দাগনভূঞার দাদনা খালসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও অপরিষ্কার পরিবেশ মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছে।

এব্যাপারে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। যথাযথ সেবা নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি। মূলত দাগনভূঞায় এডিস মশার প্রজনন বেশি হচ্ছে। তবে ডেঙ্গুর পরীক্ষা ও শনাক্তকরণে কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে জেলায় ৩ হাজার ২৮১টি পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত