২৫ কোটি টাকার কাজে হরিলুট, কাজ করছেন সাব ঠিকাদার

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সড়কের সংস্কারে পঁচা আদলা, মাটি ও পঁচা কনা দিয়ে কাজ করছে এমন অভিযোগ উঠে সাব ঠিকাদার ফিরোজ আলম মিয়ার বিরুদ্ধে। কাজের অনিয়মে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বেহাল সড়কের বেহাল দশায় চলছে ঠিকাদারের মহা হরিলুট। তারা উপজেলা প্রকৌশলীর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রকৌশলীর তদারকি নেই এবং তিনি ঠিকাদারের কব্জায় অর্থ বন্দি এমন মন্তব্য করেন তারা। এমএম বির্ল্ডাস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রায় ২৫ কোটি টাকার কাজ করছে সাব ঠিকাদার জেলা অঙ্গশোভার সত্ত্বাধিকারী মো. ফিরোজ আলম মিয়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন সড়কের চলমান কাজের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে কাজ বন্ধ করে দেন। পঁচা আদলা ও ইটের কনা হাতের চাপে ভেঙে মাটির বের করছে এমনটা দেখা যায়। তারা কাজ বন্ধ করলেও উপজেলা প্রকৌশলীর তদারকি ছাড়াই পুনরায় কাজ করেন ঠিকাদার। জনগণের তোপের কিছু কাজের কনা ও আদলা সরিয়ে নিলেও অনিয়ম বন্ধ হয়নি বলেও তারা জানান।

এমএম বির্ল্ডাস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের পক্ষে সাব ঠিকাদার ফিরোজ আলম মিয়া চর কাদিরার (চর বসু) নুরীয়া হাজির হাট থেকো নুরু পাটোয়ারীর হাট পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ২৫ মিটার কাজ করছে। এতে সড়কের চেইন বরাদ্দের প্রায় ২৫ কোটি টাকা অনুমোদন রয়েছে।

স্থানীয় মুহাম্মদ আকতার মাহমুদ বলেন, গতকয়েক দিন যাবত চর বসু সড়কের কাজ চলছে। স্থানীয়রা কাজের যথেষ্ট অনিয়ম ধরে কাজ বন্ধ করে দেয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখি, ঠিকাদার পঁচা আদলা, কনা, ও মাটি মিশ্রিত সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করছে। দিন-দুপুরের সড়কে ঠিকাদার সরকারের কোটি কোটি টাকা হরিলুট করছে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে বারবার বলার পরও কাজ বন্ধ করেনি তিনি। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এম এম বির্ল্ডাস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের পক্ষে ফিরোজ আলম মিয়াকে একাধিক বার ফোন দিয়েও কোনও তথ্য বা উত্তর পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদ বলেন, সড়কের যতগুলো কাজ চলমান রয়েছে তাদের মধ্য ৯০ শতাংশ কাজ ভালো হচ্ছে। ১০ শতাংশ কাজের অনিয়ম রয়েছে এমন মন্তব্য করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান বলেন, উপজেলার বেশ কিছু সড়কের তথ্য রয়েছে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে সড়কগুলোর অনিয়মের বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। দেখি উনি কী করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত