কালিয়াকৈর 

ভিন্ন গ্রুপের রক্ত পুশে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু, বন্ধ হচ্ছে ক্লিনিক

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:১৭ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি অবৈধ ক্লিনিকে অন্য এক রোগীর ভিন্ন গ্রুপের রক্ত পুশেই প্রসূতি মা খাদিজার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা ছাড়াও লাইসেন্স নবায়ন না করে নানা অনিয়মের অভিযোগে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ হচ্ছে সেই অবৈধ ক্লিনিক। 

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত ও ক্লিনিক পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। 

নিহত খাদিজা আক্তার (২৫) কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর এলাকার আবির হোসেনের স্ত্রী। 

এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাতে উপজেলার কালিয়াকৈর ট্রাক ষ্টেশন এলাকায় রুমাইছা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে অবৈধ ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে প্রসূতি মা খাদিজার ছেলে সন্তান হয়। ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. জাকিয়া সুলতানা ও তার একটি টিম খাদিজার সিজার করেন। কিন্তু সিজারকালিন সময় তারা অন্য এক রোগীর জন্য রাখা ভিন্ন গ্রুপের রক্ত তার শরীরে পুশ করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কৌশলে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সোমবার ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে সেখানে প্রসূতি মা খাদিজার মৃত্যু হয়। 

পরে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ওই ঘটনাটি ধামাচাপা দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এসব বিষয় মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে ওইদিন বিকেলে এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরপর দুপুরে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানের নেতৃত্বে অপর একটি টিম প্রসূতি মা খাদিজার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে যান। তদন্তে অন্য রোগীর জন্য রাখা ভিন্ন গ্রুপের রক্ত পুশ করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও লাইসেন্স নবায়ন না করে অবৈধভাবে নানা অনিয়মের মাধ্যমে ওই ক্লিনিকটি পরিচালিত করা হচ্ছিল। ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুসহ নানা অভিযোগে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ওই অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। 

এদিকে প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়ে ওই ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মনিরুজ্জামান জানান, নিহতের পরিবারের সঙ্গে সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু কিভাবে এটা সমাধান করা হয়েছে? আমি জানি না। সেটা ক্লিনিকের মালিক পক্ষ বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান জানান, তদন্তে জানা গেছে অন্য রোগীর জন্য রাখা ভিন্ন গ্রুপের রক্ত পুশ করায় ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ২০২২/২৩ সালের পরে লাইসেন্স নবায়ন না করে ক্লিনিকটি অবৈধভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে চারজন রোগী থাকায় বুধবার পর্যন্ত ক্লিনিকটি চালু থাকবে। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এই ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত