শ্রীপুরে অবরোধ : ৭ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক মহাসড়ক

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৩১ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক তাদের দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১০ টা থেকে বে লা সাড়ে তিনটা অবদি ওই ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

এ সময় দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা পড়েন চরম দুভোর্গে। বিভিন্ন যানবাহনে আটকা পড়ে বিভিন্ন বয়সের যাত্রীরা গরমে নাকাল হয়ে পড়েন। শিশু বৃদ্ধদের নিয়ে বিপাকে পড়েন অন্যরা। চালক যাত্রীরা খাবার সংকটে পড়েন। এ সময় ভাসমান খাদ্য বিক্রেতারা এগিয়ে আসেন।
 
খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল আসে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন। তবে আইশৃঙ্খলা বাহিনীর কথায় কোনো শ্রমিক মহাসড়ক ছাড়তে রাজি হয়নি। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক সময় পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পরে ক্ষুব্দ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে। এতে বেশ কিছু শ্রমিক আহত হয়।
 
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে জৈনাবাজার নগর হাওলা এলাকার এএ এর্য়ান মিলস নামে পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক আন্দোলন শুরু করেন বকেয়া বেতনের দাবিতে। শ্রমিকদের দাবি চলতি মাসসহ তাদের দুই মাসের বেতন আটকা পড়েছে। 

অপর দিকে স্টাফদের (কর্মকর্তা) তিন মাসের বেতন বকেয়া পড়ে আছে। চলতি মাসের (অক্টোবার) ৭ তারিখে বেতন দেওয়া কথা থাকলেও এখনো বেতন দেওয়া হয়নি বলে শ্রমিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আজ নয় কাল এমন তালবাহানা করছিল কর্তৃপক্ষ। 

তাই সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়ে সবাই এ যোগে কাজ বন্ধ করে মহাসড়কে নেমে পড়েন। এর পর তারা মহাসড়কের দুই লেন বন্ধ করে দেয়। এ সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন বিভিন্ন যানবাহনে থাকা যাত্রীরা।
 
প্রত্যক্ষদর্শরী জানান- আজ সকালে বিভিন্ন সেকশনে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। এর পর সব শ্রমিক একাট্টা হয়ে কাজ বন্ধ করে পাওনা বেতনের দাবিতে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে আসেন। রাস্তায় টায়ালে আগুন জ¦ালিয়ে আন্দোলন করেন শ্রমিকরা। তারা বলেন পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল এসে ক্ষুব্দ আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন। তবে এ সময় ক্ষব্দু শ্রমিকরা পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। 

তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা মহাসড়ক ছাড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এর পর দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া লাঠিচার্জ চলে। এক সময় শ্রমিকদের জটলা ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারসেল ছোড়েন। এর পর শ্রমিকরা বিক্ষিপ্ত ভাবে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পুলিশের লাঠিচার্জে বেশকিছু শ্রমিক আহত হয়েছে। তাদের দাবি অন্তত 7 ঘন্টা ঢাকা ময়মননিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।
 
ক্ষ্ব্দু শ্রমিকরা জানান- দুই মাস হয়ে গেল এখনো বকেয়া বেতন পরিশোধ করছেনা কারখানা কর্তৃপক্ষ। নানা টালবাহানা করে কালক্ষেপণ করছেন। আজ সবাই নিরুপায় হয়ে আন্দোলনে নামেন। তারা বলেন পুলিশ শান্ত শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। টিয়াশেল ছোড়েছে। এতে অন্তত ৩০-৩৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছে। 

তারা বলেন এখন নানা কারনে কারখানায় কাজ কম। ফলে শ্রমিকদের ওভারটাইম না থাকায় বেত ভাতা কমে গেছে। এ অল্প টাকায় চলতে হচ্ছে। এর মধ্যে বেতন বকেয়া পড়ে থাকলে আমাদের চলার কোনো উপায় থাকেনা। দোকান বাকি বাসা ভাড়াসহ সব দিক থেকেই চাপে থাকা লাগে। এ কারনে সবার মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরিবার নিয়ে চলা চরম কষ্ট হচ্ছে।  

নাম প্রকাশে কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন ৩ মাস হলো আমাদের (স্টাফ) বেতন বকেয়া পড়ে আছে। এ দিকে শ্রমিকদের বেতনও চলতি মাসসহ দু মাস হলো পাচ্ছেনা। 

১০ তারিখের মধ্যে বেতন হয়। কিন্তু কারখাানায় কাজ কম। এ কারনে শ্রমিকদের টাকাও (বেতন) কম কামাই হচ্ছে। এ অল্প টাকা সময়মত না পেলে পরিবার নিয়ে চলা দায়।সকাল থেকে কারখানায় জড়ো হয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেনন। পরে সবাই একত্র হয়ে মহাসড়কে নেমে পড়েন।
 
তবে এ ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 
আন্দোলনরত শ্রমিক আরমান আলী বলেন বেতন না পেয়ে আমাদের এমনি টাকার অভাবে সংসার চালাতে কষ্ট হকরছি তার ওপর পুলিশ আমাদের ওপরেই হামলা চালালো। আমাদের বেধম মারধর করেছে। কাঁদানে গ্যাস ছোড়েছে। তিনি দাবি করেন এতে আমাদের অন্তত ৩০-৩৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছে।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন এখনো মহাসড়ক (বেলা সাড়ে ৩ টা) একে বারে স্বাভাবিক করা যায়নি থেমে থেমে দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ চলছে। ক্ষুব্দ শ্রমিকরা সুযোগ বুঝেই আবারও মহাসড়কে চলে আসছে। ধাওয়া দিলে সরে পড়ে। তবে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা নাই। এখনো দফায় দফায় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছে।
মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি আইয়ুব আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোাবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
 
শ্রীপুর মডেল থানাও ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক জানান- সকাল থেকেই শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা সবাই একাট্টা হয়ে ঢকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে টায়ার জ¦ালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। পরে তাদের সাথে কয়েক দফা কথা বলেও তাদের সরানো যায়নি। 

এ সময় দুপক্ষের মধ্যে (পুলিশ-শ্রমিক) সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায় মারমূখি উত্তেজিত ক্ষুব্দ শ্রমিকদের মহাসড়কে থেকে সরাতে লাঠিচার্জ ও  টিয়াশেল (কাঁদানে গ্যাস) ছোড়া হয়। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
 
কালিয়াকৈর সার্কেলের অতিরিক্তপুলিশ সুপার মেরাজুল ইসলাম জানান খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন। পরে তাদের প্রতিনিি নিয়ে মালিক পক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে বসে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।  বিকাল ৩ টার পর থেকে মহাসড়ক স্বাভাবিক হতে থাকে। এখনো কারখার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ের রাখা আছে।
 
শিল্প পুলিশের ওসি (শ্রীপুর জোনাল) আবদুল লতিফ জানান- মহাসড়কে যানবাহন (বেলা৪টা) চলাচল স্বাভাবিক আছে। তিনি বলেন উত্তেজিত মারমূখি ক্ষুব্দ শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরাতে টিয়ারশেল ছোড়া ,বারার বুলেট ছোড়া ও লাঠিচার্জ করা হয়েছে। এখন কারখানার আশপাশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে। তবে কোনো পুলিশ সদস্য আহত নাই বলে এ পুলিশ কর্মকতা নিশ্চিত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত