হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনকে দেশব্যাপী প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ডাক বাংলো চত্বরে ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী বলেন, এদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ইসকন ইন্ডিয়ার এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানা অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতায় লিপ্ত। সবশেষ, টঙ্গী বিটিসিএল টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মহিবুল্লাহ মিয়াজীকে জুমার খুতবায় সত্যোচ্চারণের কারণে পরপর ১২টি চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দেওয়ার এক পর্যায়ে ইসকন সন্ত্রাসীরা তাকে গাজীপুর থেকে গুম করে।
তিনি বলেন, অবশেষে ওই ইমামকে সীমান্তবর্তী পঞ্চগড়ে শিকলে হাত-পা বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমরা এই গুমের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এদেশের মুসলমানরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কোনো অপরাধীর জুলুমের শিকার হলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বিবৃতি আসে না। বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মুসলমানদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকার বারবার নীরব থেকেছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের নভেম্বরে অর্থপাচারের অভিযোগে ইন্ডিয়ান এজেন্ট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ইসকনের ১৭ সদস্যের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ। ২০২১ সালের জুনে চট্টগ্রামে অবস্থিত প্রবর্তক সংঘ নামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি সংগঠন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইসকনের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ তোলে।
তিনি বলেন, মন্দিরের নাম দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা ইসরায়েলি কায়দায় একের পর এক আস্তানা ও স্থাপনা গড়ে তুলেছে। দুর্বল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপরও তারা নির্যাতন চালাতে দ্বিধা করে না। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের হাইকমিশনের প্রভাব খাটিয়ে ইসকন এ দেশের প্রশাসন, আমলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর একটি অংশকে ম্যানেজ করে তাদের উগ্র হিন্দুত্ববাদী তৎপরতা জারি রাখতে পেরেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব শায়খুল হাদীস মাওলানা জাফর আহমদ বলেন, শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নকারী ও মুসলিমবিদ্বেষী ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গত বছরের নভেম্বরে গ্রেফতার হলে তার অনুসারী ইসকন সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সহিংস হামলা চালিয়ে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে শহীদ করে। সেসময় চট্টগ্রামের মুসলমানদের অভাবিত ধৈর্য ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনকে ‘দুর্বলতা’ হিসেবে নিয়েছে ইসকন। তা নাহলে কীভাবে তারা আজ ভিন্নমতের কারণে একজন ইমামকে গুম করার স্পর্ধা দেখায়?
সভাপতির বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও হাটহাজারী উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতী মুহাম্মদ আলী কাসেমী বলে, গত বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর ইন্ডিয়ার মদদে ইসকন নেতা চিন্ময় দাস দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের বিভিন্ন অপচেষ্টা করেছিল। এদেশের মুসলমানদের ধৈর্য ও বিচক্ষণতার কারণে তাদের ষড়যন্ত্র সফল হতে পারেনি। সম্প্রতি একের পর এক মুসলিম মেয়েকে ধর্ষণ করে দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে সক্রিয় ইন্ডিয়ান এজেন্টরা। ইসকন মুসলমান ও সনাতনী সম্প্রদায় উভয়ের শত্রু। সম্প্রীতি রক্ষার্থে মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আমরা সারা দেশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ইসকনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।
উপজেলা হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার ও মাওলানা আসাদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন, হেফাজতের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাহি সদস্য যথাক্রমে মাওলানা হাফেজ আলী আকবর, মাওলানা মাহমুদ হোসাইন, মাওলানা শফিউল আলম, উপজেলা সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা ওজাইর আহমদ হামিদি, মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ, মোরশেদ আলম, আবু তাহের রাজিব, মাওলানা মহিউদ্দীন, হাফেজ মো. জাকারিয়া, মাওলানা জিয়াউল হক, এইচ এম শহীদ, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মাওলানা ওবাইদুর রহমান প্রমুখ।
