তরুণদের অশ্লীল জগতে যুক্ত হতে উৎসাহ দিতেন পর্নো তারকা দম্পতি

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০০ এএম

বাংলাদেশে বসে অনলাইনে পর্নো ভিডিও তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে পর্নো তারকা দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

মাত্র এক বছরের মধ্যে তারা ১০০টিরও বেশি ভিডিও তৈরি করে আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন বলে জানা গেছে।

দ্য ডিসেন্ট নামের অনুসন্ধানমূলক একটি প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে এই যুগল অনলাইনে সক্রিয় হন।

তাদের তৈরি কনটেন্ট অল্প সময়ের মধ্যেই একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং তারা বিশ্বব্যাপী শীর্ষ দশ পারফরমারের তালিকায় অষ্টম স্থানে উঠে আসেন।

সূত্র বলছে, অল্প শিক্ষিত এই দম্পতি নিজেদের ‘মডেল’ পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। 

অশ্লীল ভিডিওর লিংক ও আয়ের তথ্য শেয়ার করে তরুণদের একই পথে আসতে উৎসাহ দিতেন তারা। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশি মুদ্রায় বিশ লাখ টাকারও বেশি আয় করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০ অক্টোবর বান্দরবান থেকে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডি। পরে জানা যায়, নারী সদস্যটির বয়স ২৮ বছর এবং তিনি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুরের বাসিন্দা। প্রায় দশ বছর আগে তার প্রথম বিয়ে হয়, তবে বিচ্ছেদের পর তিনি চট্টগ্রামে চলে যান। 

অন্যদিকে পুরুষ সদস্যটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, “গ্রেফতার দম্পতি বিদেশি ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে পর্নো ভিডিও আপলোড করতেন। 

তাদের পরিচালিত চ্যানেলটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ওয়েবসাইটে অবস্থান নিয়েছিল। তারা সমাজের নৈতিক কাঠামো ধ্বংস করে অর্থ উপার্জন করছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুযায়ী, পর্নো কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা ফৌজদারি অপরাধ। 

এই দম্পতি শুধু নিজেরাই অপরাধে লিপ্ত ছিলেন না; বরং তরুণদেরও প্রলুব্ধ করে এই অপরাধচক্রে যুক্ত করতে ভূমিকা রেখেছেন।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা শুধু ওয়েবসাইট নয়, টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও সক্রিয় ছিলেন। 

২০২৪ সালের মে মাসে খোলা তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কয়েক হাজার অনুসারী ছিল, যেখানে নিয়মিত ভিডিও লিংক ও আয়ের স্ক্রিনশট শেয়ার করা হতো।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেটভিত্তিক অশ্লীল কনটেন্ট সমাজে গভীর প্রভাব ফেলছে। তরুণ প্রজন্ম এসব দেখে বাস্তব জীবন সম্পর্কে বিকৃত ধারণা পেতে পারে, যা যৌন অপরাধ ও মানসিক বিকৃতি বাড়াতে পারে। 

তারা মনে করেন, অনলাইন পর্নোগ্রাফি প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আরও কঠোর নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত