বোয়ালমারীতে বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে উত্তেজনা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৫০ এএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ফরিদপুর জেলা শাখা সম্প্রতি বোয়ালমারীর উপজেলা ও পৌর শাখার সাংগঠনিক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। জেলা শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন স্বাক্ষরিত ১০১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা কমিটি ও সমসংখ্যক সদস্য বিশিষ্ট পৌর কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। 

ঘোষিত উপজেলা ও পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অধিকাংশ পদই পেয়েছেন ফরিদপুর-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুসারীরা। অপরদিকে বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর পক্ষের অনুসারীরা গুরুত্ব ও সংখ্যার নিরিখে উল্লেখযোগ্য কোন পদই পাননি। খন্দকার নাসির ও ঝুনু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন দলীয় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছে। উপজেলা শাখার তিন নম্বর সহসভাপতি করা হয়েছে ঝুনু মিয়াকে। উপজেলা কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে আর সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সঞ্জয় সাহাকে। পৌর শাখায় সভাপতি করা হয়েছে সাবেক পৌর কাউন্সিলর আ. কুদ্দুস শেখকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ইমরান হোসেনকে।‎ উপজেলা ও পৌর উভয় কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকেরাই খন্দকার নাসিরের অনুসারী। 

উপজেলা ও পৌর কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের নেতৃত্বে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা গতকাল শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার পরে এলাকায় আনন্দ শোভাযাত্রা করে। পরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকবাংলো সড়কে গিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা শেষ হয়। এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে অভিনন্দন জানানো হয়। নব গঠিত উপজেলা ও পৌর কমিটিতে স্থান পাওয়া খন্দকার নাসিরের অনুসারী স্থানীয় নেতারা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। 

অপরদিকে নবগঠিত 'পকেট' কমিটি বাতিলের দাবিতে শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ, মশাল মিছিল এবং সড়ক অবরোধ করেছে বিএনপির অপর অংশের নেতা শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর অনুসারীরা। ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন ও আওয়ামী লীগের পদ-পদবিতে থাকা নেতাকর্মীদের নবগঠিত কমিটিতে স্থান দেওয়ার অভিযোগে শনিবার বিকেলে এসব কর্মসূচি পালন করে। পৌরসভার ব্যস্ততম এলাকা ওয়াপদা মোড়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে কিছু সময় সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এতে মাইজকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বাবু, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব নাজিম উদ্দিন মিলু মিয়া, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. আব্দুস সবুর, পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া, বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস ও বোয়ালমারী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, সাবেক কাউন্সিলর শেখ আতিকুল আলী ও শেখ আজিজুল হক, শেখর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রইসুল ইসলাম পলাশ প্রমুখ।  

দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে শহরে আতঙ্ক থাকলেও কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। থানা পুলিশ সর্বোচ্চ সর্তকতা অবস্থায় ছিলো বলে বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল আমিন জানান।

বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির লোকজনদের নিয়ে প্রকৃত নিবেদিতপ্রাণ বিএনপির নেতা, কর্মীদের বঞ্চিত করে একপক্ষীয় কমিটি করা হয়েছে। 

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে এবার কমিটি করা হয়েছে। যারা দলের জন্য শ্রম ও মেধা দিয়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেই সব নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করায় বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদাররেস আলী ইছা বলেন, যেকোন বড় দলেই স্থানীয় পর্যায়ে গ্রুপিং থাকে, কমিটি গঠনের সময় এটা আরো প্রকট হয়। তবে আমরা কমিটিতে সকলকেই এড্রেস করার চেষ্টা করেছি। এদের মধ্যে দলের জন্য সব থেকে নিবেদিত ব্যক্তিরা নেতৃত্বে এসেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত