ক্রিকেটে জুয়া বন্ধ করতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন বুলবুল

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২৮ এএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, দেশের ক্রিকেটে বেটিং (জুয়া) বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে প্রাণ নাশের হুমকির মধ্যে পড়েছেন।  তবে এই লড়াই থেকে সরে না গিয়ে, একে তিনি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন।

ইউটিউব চ্যানেল চিলি ফ্লেক্স স্টুডিও-এর এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে বুলবুল বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেটিংয়ে জড়িত ছয়জনকে আটক করা হয়।

বুলবুল বলেন, “আমাদের প্রথম লক্ষ্যই হলো ক্রিকেটে বেটিং বন্ধ করা। জানি, এতে জীবনহুমকি আসতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে আমরা ছয়জনকে ধরতে পেরেছি। এই নেটওয়ার্ক অনেক বড়। কিন্তু আমরা এটাকে যুদ্ধ হিসেবেই নিয়েছি—যা হওয়ার হবে।”

গত আগস্টে বিসিবি এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক গ্লোবাল অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (এএসইউ) প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়। বুলবুল জানান, অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তার সহায়তায় বিসিবির নিজস্ব দুর্নীতি দমন ইউনিট (বিসিবি-এএসইউ)কে আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটকে শক্তিশালী করছি। এজন্য অ্যালেক্স মার্শালকে পরামর্শক হিসেবে এনেছি। সাবেক পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদেরও নিয়োগ দিচ্ছি। আমরা জেনেছি, মাঠের আশপাশের ভবনগুলো এক লাখ টাকায় ভাড়া নিয়ে সেখানে বসেই বেটিং চলে। এই নেটওয়ার্ক এত বড় যে তারা ঘরোয়া ক্রিকেটেও ঢোকার চেষ্টা করে। এক দিনে হয়তো বন্ধ করা যাবে না, কিন্তু আমরা ধীরে ধীরে এটা বন্ধ করতে চাই।”

ক্রিকেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, “আমাদের পাশের দেশ ভারত এখন ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ভেন্যু ব্যবহার করছে। তাদের ক্রিকেট এখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও ছড়িয়ে গেছে—মণিপুর, নাগাল্যান্ড, আসাম থেকে খেলোয়াড় আসছে বিশ্বকাপে। তারা বলছে, ‘আমাদের উত্তর-পূর্ব এখনো ক্রিকেটে পিছিয়ে আছে, তাই সেখানে মনোযোগ দিই।’ আমরাও সেই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছি—জেলা থেকে বিভাগ, বিভাগ থেকে জাতীয় দলে একটানা পথ তৈরি করা। যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ ক্রিকেট খেলতে পারে। মা মেয়ের সঙ্গে খেলবে, ছেলে বাবার সঙ্গে খেলবে—এভাবেই ক্রিকেট হবে আমাদের সংস্কৃতি, করপোরেট সংস্কৃতির অংশ।”

বুলবুলের ভাষায়, “আমরা জানি ঝুঁকি আছে, কিন্তু ক্রিকেটকে সুরক্ষিত রাখতে হলে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতেই হবে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত