পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যবর্তী সংঘাত ‘দ্রুত সমাধান’ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ‘মহান ব্যক্তিত্ব’ বলে প্রশংসা করেছেন।
এশিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি কুয়ালালামপুরে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভাষণ দিয়ে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
দুই দেশের সীমান্ত পারাপার ১১ অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে। এবারের সংঘর্ষে দুই পক্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে, যা ২০২১ সালে তালেবান কাবুল দখলের পর সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাত।
ইসলামাবাদ কাবুলের কাছে দাবি জানিয়েছে, আফগানিস্তানে লুকিয়ে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করুক, যারা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায়। গত সপ্তাহান্তে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় আলোচনায় যুদ্ধবিরতি হয়েছে এবং তা এখনো কার্যকর রয়েছে।
ইস্তাম্বুলে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় পাকিস্তান আফগান তালেবানকে একটি বিস্তারিত সন্ত্রাসবিরোধী পরিকল্পনা হস্তান্তর করেছে, সূত্র জানিয়েছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি দুই পক্ষকে শান্তিতে পৌঁছাতে সাহায্য করতে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘আমরা মাসে একটার হারে এগোচ্ছি। মাত্র একটি বাকি আছে, যদিও শুনেছি পাকিস্তান ও আফগানিস্তান আবার শুরু করেছে। কিন্তু আমি সেটা খুব দ্রুত সমাধান করব। আমি তাদের দুজনকেই চিনি। ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রী মহান ব্যক্তিত্ব, এবং আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা সেটা দ্রুত সম্পন্ন করব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তিনি শান্তি নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেন। ‘যদি আমি সময় নিয়ে লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচাতে পারি, তাহলে সেটা সত্যিই একটা মহান কাজ,’ তিনি মন্তব্য করেন। তিনি যোগ করেন, অন্যান্য প্রেসিডেন্টদের বিপরীতে তিনি যুদ্ধ শুরু করেন না, বরং শেষ করার ওপর জোর দেন।
‘আমি কোনো প্রেসিডেন্টের কথা মনে করতে পারি না যিনি কোনো যুদ্ধ সমাধান করেছেন। তারা যুদ্ধ শুরু করে। সমাধান করে না,’ তিনি যোগ করেন।
এদিকে, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার নেতারা রবিবার ট্রাম্পের উপস্থিতিতে একটি উন্নত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তাদের তীব্র সীমান্ত সংঘাতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের জন্য তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন পান।
এই চুক্তি ৩ মাস আগের যুদ্ধবিরতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যখন ট্রাম্প দুই দেশের তৎকালীন নেতাদের ফোন করে শত্রুতা বন্ধ করতে বলেন, নয়তো ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত হবে বলে সতর্ক করেন।
উভয় পক্ষই ৫ দিনের রকেট ও ভারী আর্টিলারি বিনিময় শুরু করার দায় একে অপরের ওপর চাপিয়ে দেয়। ওই সংঘর্ষে অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে তাদের সবচেয়ে বড় লড়াই।
সূত্র: জিও নিউজ
পাঁচ দাবিতে সারা দেশে আট দলের বিক্ষোভ আজ
ভারতে পালানোর সময় শামীম ওসমানের সহযোগী আজিজ গ্রেপ্তার