এনসিপির জন্য অন্য প্রতীক দিয়ে বিজ্ঞপ্তি শিগগিরই

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩৯ এএম

বিধিমালায় না থাকায় শাপলা প্রতীক পাচ্ছে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি); শিগগিরই নির্বাচন কমিশন স্ববিবেচনায় অন্য প্রতীক দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে। গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকের এ কথা বলেন।

ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমার কাছে বিকল্প কোনো প্রস্তাব বা আলোচনা-সংক্রান্ত তথ্য নেই। নির্বাচন কমিশন সব দিক বিবেচনায় নিজ উদ্যোগে একটি প্রতীক বরাদ্দ করবে এটাই আমাদের অবস্থান।’

আইনি ব্যাখ্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন মনে করেছে, এটি রাখার প্রয়োজন নেই এবং সে বিবেচনাতেই তফসিল প্রকাশ করা হয়নি। বিস্তারিত আইনি ব্যাখ্যা জানতে হলে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।’

আরপিও সংশোধনের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আরপিও সংশোধনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা হয়েছে। কাজেই কোনো জায়গায় সাংঘর্ষিক কিছু থাকলে সেটি নিশ্চয়ই আলোচনায় আসত, সেটাই উপস্থাপিত হতো। আমার জানা মতে, এখনো পর্যন্ত কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থা হয়নি। কাজেই অনুমানের ওপরে এ বিষয়ে কথা না বলাই ভালো।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি এসেছিল। ওনারা এটাও বলেছেন। ওনারা নিশ্চয়ই আইন মন্ত্রণালয়েও যোগাযোগ করেছেন বা করবেন।’

আরপিও সংশোধনের বিষয়ে কমিশন মোটামুটিভাবে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু প্রস্তাব আছে, যেসব বিষয়ে কমিশন কখনোই দ্বিমত করেনি। কমিশন মনে করেছে, এগুলো স্বতঃসিদ্ধ এবং গ্রহণযোগ্য। দ্বিতীয়ত, কিছু প্রস্তাব ছিল যেগুলো ভাষাগত, সংখ্যাগত বা অবস্থানগত সামান্য সংশোধন-সংযোজনের মাধ্যমে সহজেই গ্রহণযোগ্য। তৃতীয়ত, কিছু প্রস্তাবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজন রয়েছে। চতুর্থত, কিছু প্রস্তাব নিয়ে কমিশন মনে করেছে, এগুলোর বিষয়ে আলাদা আলোচনার প্রয়োজন নেই, কারণ বিদ্যমান আইনেই সেসবের যথার্থতা ব্যাখ্যা করা রয়েছে। পঞ্চমত, কমিশন নিজস্ব বিবেচনায় কিছু সংশোধন প্রস্তাব করেছে, যা এভাবেই সংশোধিত হওয়া উচিত।’

ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে সচিব বলেন, ‘আমরা আজ চূড়ান্তভাবে ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করেছি। ৬৪টি জেলার ৩০০টি সংসদীয় আসনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৭৬১। পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং মহিলাদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট কক্ষের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯।’

আখতার আহমেদ জানান, অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ১৪; অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র যেখানে রাখা বা সংরক্ষণ করা হবে তাকে ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ ধরা হয়েছে। পরে প্রয়োজনে এ সংখ্যায় সামঞ্জস্য বিধান করা হবে।

কর্মপরিকল্পনা থেকে সামান্য পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও উদ্বেগের কারণ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুটি ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব রয়েছে একটি হলো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং অন্যটি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন।’

তিনি জানান, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ২২টি দলকে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে আরও তথ্য যাচাইয়ের জন্য মাঠপর্যায় থেকে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে এবং তারপর রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হবে। পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই করা হচ্ছে। সচিব বলেন, কতগুলো সংস্থা শেষ পর্যন্ত নিবন্ধিত হবে, তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি, এ সপ্তাহের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষ করতে।’

তিনি জানান, বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়ে থাকায় সপ্তাহের শেষের দিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আবার ব্রিফ করা হবে। রাজনৈতিক দল ও পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য উপস্থাপন করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত