ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্তি হ্যাকানেন বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রোধ করতে হলে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে প্রতিহত করা অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশ এখন এমন এক বৈশ্বিক পরীক্ষার মুখোমুখি যেখানে সাফল্য বা ব্যর্থতার প্রভাব সমগ্র বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
হেলসিঙ্কিতে গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যাকানেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার দুটি তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, এটি পুতিনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ওয়াশিংটনের দৃঢ় অবস্থানের বড় ইঙ্গিত।
হ্যাকানেন আরও বলেন, ‘চীন নজর রাখছে, বিশ্বে স্বৈরশাসকরা মনে করছে তারা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর ধৈর্য পরীক্ষা করতে পারবে, কিন্তু আমাদের দেখাতে হবে আমরা আরও ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়। আমাদের অবস্থান কেবল ইউক্রেনের পক্ষে নয়, সহিংসতা ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, এবং এই বার্তাটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্যও প্রযোজ্য।’
সংঘাতের অবসানের জন্য তিনি তিন দফা কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন- রাশিয়ার অর্থনীতি ও জ্বালানি রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, ইউক্রেনকে আরও সামরিক সহায়তা প্রদান, এবং রাশিয়ার ভেতরের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাগুলো ধ্বংসে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও ইউক্রেনকে মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেননি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ মিত্র দেশগুলো অনুরোধ করলেও, ট্রাম্প যুক্তি দেন- এই অস্ত্রগুলো অত্যন্ত জটিল এবং সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য দীর্ঘ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
হ্যাকানেন সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর দৃঢ়তা দুর্বল হলে চীন আরও উৎসাহিত হবে। তিনি বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যদি কোনো সংঘাত শুরু হয়, রাশিয়া কোনো না কোনোভাবে চীনের পক্ষে থাকবে। আমরা ইতোমধ্যেই দেখছি, চীন রাশিয়াকে বিপুল অর্থ দিচ্ছে—জ্বালানি বাণিজ্যের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি সচল রাখছে এবং সামরিক সরঞ্জাম ও শিল্প সহযোগিতায় সহায়তা করছে।’
ফিনল্যান্ড, যার সঙ্গে রাশিয়ার এক হাজার ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত ভাগ, ২০২৩ সালে ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে। হ্যাকানেন বলেন, ‘মস্কো ও বেইজিং—উভয়ের আগ্রাসন রোধ করতে অস্ট্রেলিয়া সহ গণতান্ত্রিক বিশ্বের জোটের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।’
তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক জোটের শক্তি উপলব্ধি করতে আহ্বান জানিয়েছেন। পশ্চিমা গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ধারণা, চীন ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ানের ওপর সামরিক পদক্ষেপের সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যেই তাইওয়ান প্রণালি ও দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের সামরিক কার্যক্রম বেড়েছে।
হ্যাকানেন উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপীয় দেশগুলো সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে ইউক্রেনকে সমর্থন করেছে এবং প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে। এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদী।
সরকারি অফিসে ঝুড়ি কিনতে ১১ ধাপ! সমালোচনায় হাসনাত আবদুল্লাহ
নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নিয়োজিত থাকবে আনসার সদস্যরা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা