গাজীপুরের শ্রীপুরে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়া বন্ধ করা সেই পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে মহাসড়কে নামে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। পরে তারা ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। শুরু হয় তীব্র যানজট। ভোগান্তিতে পরেন বিভিন্ন যানবাহনে থাকা যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (২৮ তারিখ) সকাল গাজীপুর ইউনিয়নের জৈনা নগরহাওলা গ্রামের এ এ ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা দফায় দফায় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন।
খবর পেয়ে হাইওয়ে থানার পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। নিরুপায় পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ করেন। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়েন পুলিশ। এতে লাঠিপেটায় এবং এলোপাতাড়ি দৌড়াদৌড়িতে পড়ে অন্তত ৫০ জন শ্রমিক আহত হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে শ্রমিকরা মহাসড়কে জড়ো হতে থাকে। সোমবার তাদের কারখানা চুপচাপ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ওই দিন বকেয়া বেতন দেওয়ার কথা ছিল। পরে সকালে কাজে এসে দেখে কারখানা বন্ধের নোটিশ ঝুলছে। সেই জেরে কারখানা খুলে দেবার দাবিতে আজ শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। গত একসপ্তাহ ধরেই এ কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষিপ্তভাবে আন্দোলন করছেন।
আজ পুলিশ মারমুখী হয়ে লাঠিচার্জ করেন ও সাউন্ড গ্রেনড ছোড়েন তাদের সরাতে। তারা বলেন মহাসড়কে তীব্র জানযটে নাকাল হয় মানুষ। চরম ভোগান্তি পোহান লোকজন। ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ করা ছিল। দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা সরে গেলে সড়ক স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিক সরকার সুজন মিয়া বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে ২৩ তারিখ কারখানার প্রায় সকল শ্রমিক আন্দোলন করে। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এরপর পুলিশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে বেতন পরিশোধের আশ্বাসে আন্দোলন বন্ধ করা হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে সোমবার থেকে পুরোদমে কারখানা চালু হবে। কিন্তু সোমবার কর্মস্থলে এসে দেখি মূল ফটকের সামনে কারখানা অনির্দিষ্টকাল বন্ধের নোটিশ। এরপর পুলিশ আমাদের আশ্বাস দেন যে আজ মঙ্গলবার ১০টার দিকে কারখানা খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবে। কিন্তু কারখানা ফটকের সামনে এসে দেখি কারখানা বন্ধের নোটিশ।
ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, হঠাৎ করে কোনো কিছু না বলেই কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলো কর্তৃপক্ষ। আমাদের বেতনভাতা পরিশোধ করলো না। কয়েকমাস যাবৎ বেতন পরিশোধ নিয়ে টালবাহানা করছে মালিকপক্ষ। পুলিশ মালিক পক্ষ নিয়ে আমাদের ওপর হামলা পিটিয়ে আহত করেছে। সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়েছে।
কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, “পাঁচদিন আগে (২৩ অক্টোবর) শ্রমিকরা বকেয়া বেতন দাবির সময় কারখানার ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে। ফলে কারখানা চালু রাখা সম্ভব নয়। মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩(১) অনুযায়ী কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শিল্প পুলিশের ওসি শ্রী স্বপন কুমার (শ্রীপুর জোনাল) বলেন এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। মালিকপক্ষ সময় নিয়েছে আগামী মাসের (নভেম্বর) ২০-২৫ তারিখের মধ্যে সকল বকেয়া পরিশোধ করে দিবেন। আর কারখানায় ভাঙচুরে ক্ষতি হওয়া মেশিনারিজ মেরামত করতে অন্তত কয়েক মাস লাগবে। ফের কারখানা চালু হলে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে পারবেন যারা ইচ্ছা করবেন। শ্রমিকদের ১০ জন প্রতিনিধি নিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। সেখানে মালিকপক্ষ ও পুলিশও ছিল।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান- দুপুরের পর থেকেই মহাসড়ক স্বাভাবিক আছে। কয়েক দফা শ্রমিক মহাসড়কে অবরোধ করে। পরে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক মহাসড়ক বন্ধ ছিল। এখনও কিছু শ্রমিক আছে। তবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে কারখানা এলাকায়। পুলিশ নজর রাখছেন।
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায় না বিএনপি: আমীর খসরু
ইসলামী ব্যাংক-ইবনে সিনার মালিকানা জামায়াতের নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার
ধর্মকে বিকৃত করে নির্বাচন বানচাল জনগণ মেনে নেবে না: ফারুক
সূর্যকুমারকে মিচেল মার্শের হুঁশিয়ারি