মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের নিরীহ মানুষ আকবর আলী পৈত্তিক সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশীর অত্যাচার ও হয়রানিতে ভোগছেন দীর্ঘদিন ধরে। এখনো তিনি ওই সম্পত্তিতে বসবাস করলেও প্রতিপক্ষের লাগাতার হুমকি-ধুমকিতে পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ভয় ও অনিচ্ছয়তায়। তাদের অত্যাচারে আকবরের বাড়িতে থাকা ও আসা যাওয়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পঞ্চাষোর্ধ আকবর সংসার চালাতে পেটের দায়ে ব্যাটারি চালিত অটো-রিক্সা নিয়ে পথে পথে ঘুরছে। নিরুপায় আকবর ন্যায় বিচার পাওয়ার বিজ্ঞ আদালত, থানা-পুলিশ ও গণ্যমান্য লোকের সাহায্য প্রার্থী হয়ে ঘুরছে।
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে আকবর আলীর পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে পার্শ্ববর্তী কোরমান আলী, চুন্নু মিয়া গংদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। আকবরের বসতবাড়ির ৪ শতাংশ জমি নিয়ে গ্রামের মৃত ওফেল উদ্দিনের ছেলে কোরমান আলী, রোকমান আলী, ছফল উদ্দিনের ছেলে চুন্নু মিয়া, কন্যা নুরী, রানু, ছাহেরা, ওফেল উদ্দিনের মেয়ে ময়ূরী ও রোকমান আলীর ছেলে রোহান সংঘবদ্ধভাবে নানা বিরোধ চালিয়ে আসছে। এদের হয়রানিমূলক কার্যকলাপের নিরীহ আকবরের বাড়িতে বসবাস করা দুষ্কর হয়ে উঠে। তার পরিবারে মা জাপাতন নেছা (৭০), স্ত্রী মজু বেগম, মেয়ে আকলিমা, তাসলিমা ও ছেলে দেলোয়ার হোসেন প্রতিপক্ষের লোকজনের হুমকি-ধুমকিতে সব সময় আতঙ্কগ্রস্ত থাকে। দীর্ঘদিন যাবৎ এমন অবস্থা চলতে থাকায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আকবর আলী মানিকগঞ্জ বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর- ৭৯/২১)। মামলার আদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষের লোকজন আকবর ও পরিবারের লোকজনের উপর অযথা হয়রানি চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে আকবর আলী বাধ্য হয়ে চলতি মাসের ২৬ অক্টোবর শিবালয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ বছর ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে সালিশ বৈঠক হয়। সকলের সিদ্ধান্ত মতে প্রতিপক্ষের লোকজন উক্ত সম্পত্তি বাবদ আকবর আলীকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেবে। কিন্তু, নয় মাস পার হয়ে গেলেও তারা টাকা দেয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন আকবর আলী।
আকবর আলী জানান, আমাদের পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে বাপ-চাচারা কিছু জায়গা বিক্রি করেলেও বাকী জায়গা জাল দলিল করে ভোগ দখল করিয়া আসিতেছে। এ নিয়ে কয়েকবার বিচার-সালিশ হলেও প্রতিপক্ষ বিচারের রায় মানছে না। সর্বশেষ সালিশে আমাদের সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেবার কথা ছিল। কিন্তু টাকা না দিয়ে উল্টো আমাদের এ জায়গা ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছি। আমি ন্যায় বিচার চাই। যেন আমাদের শেষ ভিটাটুকু রক্ষা হয়।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের রোকমান আলী এ প্রতিনিধিকে জানান, অনেক আগে আকবর আলীর বাপ-চাচার নিকট থেকে এ সম্পত্তি কিনে নেওয়া হয়েছে। তাই নালিশী জমিতে আকবরের কোন মালিকানা নেই। কয়েক দফা সালিশও হয়েছে। কিন্তু তিনি সালিশে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না।
স্থানীয় শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বর সাইদুর রহমান জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে সালিশ বৈঠকে আকবর আলীকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেয়ার কথা ঠিক হয়। কিন্তু অনেক মাস হলেও সে টাকা না দেয়ায় ঝামেলা চলছেই।
বলিউড নায়কের সাথে বাংলাদেশের গতি তারকা মারুফা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি কর্মচারীদের উপর হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ
বাগাতিপাড়া মসজিদে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন 