সুপারিশে কলম চালাতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩২ এএম

জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫-এ রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরে বড় চাপ থেকে মুক্ত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যে সেটি পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির সনদে স্বাক্ষর সরকারকে বেশ চাপমুক্ত রাখে। সনদ ইস্যুতে সংলাপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনও স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে। কিন্তু চাপমুক্ত থাকা ও স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া সুপারিশ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে পরস্পর বিরোধিতা ও মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গত মঙ্গলবার সরকারের হাতে সুপারিশ তুলে দেওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর যে বিরোধিতা, সেটি অন্তর্বর্তী সরকার তথা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে চাপে ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলের সুপারিশবিরোধী অবস্থান সরকারকে বেশ অবাক করেছে। সুপারিশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্য হলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি ঐক্য হতে পারে না। তাহলে এই কমিশন কেন করা হয়েছিল?

তিনি আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে এটা একটা প্রতারণা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এটা প্রতারণা। গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এত বড় একটা অভ্যুত্থান, এত ত্যাগের বিনিময়ে, এত প্রাণের বিনিময়ে সেটিকে ঠিকভাবে জাতির কল্যাণে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, যতই দিন যাচ্ছে, ততই বিভক্ত বাড়ছে। বিভক্ত হয়ে পড়াটা, এটা কারা করছেন, কেন করছেন, এটাও উপলব্ধি করতে হবে। তবে সরকার ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, বিএনপির সুপারিশ নিয়ে সমালোচনা মাঠের রাজনীতির কৌশল। শেষ পর্যন্ত বিএনপি সমালোচনা থেকে সরে আসবে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল তো সুপারিশ নিয়ে তেমন বিরোধিতা করছে না। জামায়াত গণভোট নিয়ে চাপে রাখছে সরকারকে। তবে গণভোট ইস্যুতে সরকার প্রধানের সিদ্ধান্তের বাইরে জামায়াত যাবে না বলে মনে করে সরকার ঘনিষ্ঠ ওই সূত্রগুলো।

সূত্র জানায়, সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের নিরসন করতে শিগগিরই দলগুলোকে ডেকে পাঠানো হবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনে। সেখানে সবার সঙ্গে আরেক দফায় আলোচনায় বসবেন তিনি। সেই বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনার বাইরে যাবে রাজনৈতিক দলগুলো, সেটি মনে করছে না সরকার। সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশে প্রধান উপদেষ্টা কলম চালাবেন। সেই কাটাছেঁড়ার মধ্য দিয়ে সনদ নিয়ে বিরোধিতার অবসান ঘটাতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, কমিশন একটি সুপারিশমালা দিয়েছে। সেটিই চূড়ান্ত তা তো না। এখানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কলম চালানোর ক্ষমতা রয়েছে। সেটি কমিশনের বিবেচনায়ও আছে। তিনি বলেন, আলোচনা-সমালোচনার ভেতর দিয়েই পাকাপোক্ত হবে সনদ বাস্তবায়ন।

তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, প্রধান উপদেষ্টার কাটাছেঁড়ায় আরেক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি জুতসই না হলে জামায়াত তথা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপার হতে পারে। সেটি দক্ষ হাতে সমাধান করবেন প্রধান উপদেষ্টা। জানা গেছে, সব দলকে মানামানির এ কৌশলে প্রধান উপদেষ্টা সব দলের অল্পকিছু দাবি সুপারিশে নতুন করে যোগ-বিয়োগ করবেন। বিশেষ করে গণভোট, নোট অব ডিসেন্ট, ২৭০ দিন পর আপনাআপনি সংবিধানে জায়গা করে নেবে এই ইস্যুগুলোয় ড. ইউনূস কলম চালিয়ে কাটাছেঁড়া করে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। একটি রাজনৈতিক সূত্র দাবি করে, বিএনপির রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে প্রাধান্য আগামী জাতীয় নির্বাচন। দলটিকে সামলাতে নির্বাচন জটিলতার মুখে পড়বে জানিয়ে সনদ বাস্তবায়নবিরোধী অবস্থান থেকে বিএনপিকে সরিয়ে আনার কৌশল নেবে সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত