সারের কৃত্রিম সংকটে বিপাকে কৃষকরা

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২৫ এএম

শীতকালীন ফসলের মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির মতো নন-ইউরিয়া সার নিয়ে সংকটে পড়েছেন লালমনিরহাট জেলার কৃষকরা। চাষিদের অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেটের কারণে তারা সার পাচ্ছেন না। যা পাচ্ছেন সেগুলো কিনতেও অতিরিক্ত দাম দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে সার ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহের ঘাটতির কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গুদাম থেকে যে পরিমাণ সার তারা পাচ্ছেন, তা তাদের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) লালমনিরহাট জেলার মহেন্দ্রনগরে অবস্থিত গুদাম দুটিতে ইউরিয়াবিহীন সারের পরিমাণ যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। কিন্তু সরকারের বরাদ্দের পরিমাণ প্রকৃত চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম। অক্টোবরে লালমনিরহাটে এক হাজার ৭১৫ টন টিএসপি, তিন হাজার ২৪২ টন ডিএপি এবং এক হাজার ৪৪ টন এমওপি বরাদ্দ করা হলেও তা কৃষকদের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট গ্রামের কৃষক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সার পাই না। তারা প্রায়ই বলে স্টক শেষ। কিন্তু যদি কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেশি দিই, তবে তারা সার দিতে পারে। মূলত ব্যবসায়ীরাই অতিরিক্ত লাভের আশায় এই সংকট তৈরি করেছে।’ 

উপজেলার কমলাবাড়ী এলাকার কৃষক সহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, ‘কার্তিক মাসের আবাদের ওপর ভর করে এই এলাকার কৃষক সারা বছর চলে। আর এ সময়ে সারের টান পড়লে কৃষকের অস্তিত্বে টান পড়বে।’ তাই তিনি এই এলাকার কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা করে সরকারকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

আদিতমারী উপজেলার সার ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান দাবি করে বলেন, ‘আমরা সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করি। কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নেয় না। তবে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় সারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’

লালমনিরহাট জেলা সার-ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল হাকিম বলেছেন, ‘সরকার যদি ২০০৯ সালের সার বিতরণ নীতিমালা অনুসারে বরাদ্দ দেয় এবং বর্তমান চাহিদার ভিত্তিতে সরবরাহ বাড়ায়, তবে সংকট থাকবে না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী যদি

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ 

লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগরে বিএডিসির সহকারী পরিচালক একরামুল হক বলেন, ‘সরকারি গুদামে সব সার মজুদ রয়েছে এবং ডিলাররা এটি সরকারি নিয়ম মেনে সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। সরকার প্রতি কেজি সার বিক্রির জন্য ভর্তুকি দিচ্ছে। তাই ডিলাররা কেজিপ্রতি মাত্র ২ টাকা লাভ করতে পারেন।’

লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইখুল আরেফিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সারের কোনো সংকট না থাকলেও জেলায় তামাক চাষ সারের জন্য একটা বড় ফ্যাক্টর। লালমনিরহাটে গত বছর ১৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছিল। সেখানে প্রচুর সার লাগেছে। এতে অন্য কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন। তাই তামাক চাষিরা যাতে ভর্তুকি মূল্যে সার না পায়, আমরা সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত