এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই প্রতিবেশীই। তবে ১৮ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নিয়মরক্ষার ম্যাচ হলেও, ভারত সেটিকে মর্যাদার লড়াই হিসেবেই নিচ্ছে। ভারতের প্রধান কোচ খালিদ জামিল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “যেভাবেই হোক, বাংলাদেশকে হারাতেই হবে।”
গত ১৪ অক্টোবর নিজেদের মাঠে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১–২ গোলের হার ভারতের এশিয়ান কাপের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। সেই হতাশা কাটিয়ে এখন পুরো মনোযোগ ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে। কলকাতার ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খালিদ জামিল বলেন,
“ওটাই আমাদের পরের ম্যাচ, যেভাবেই হোক জিততে হবে। এই মুহূর্তে জাতীয় দলের একটা জয়ের খুব দরকার।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সিঙ্গাপুর ম্যাচে হেরে আমি দায় স্বীকার করেছি। কিন্তু এখন সেটা ভেবে লাভ নেই। কিছু শিশুসুলভ ভুলে আমরা হোম ম্যাচটা হেরেছি। এবার সামনে তাকাতে হবে।”
গত আগস্টে ভারতের দায়িত্ব নেওয়া খালিদ এখন নতুন খেলোয়াড় খুঁজছেন, যারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে জানে। ইস্ট বেঙ্গল উইঙ্গার বিষ্ণু পুঠিয়া ভালাপিল রয়েছেন তাঁর নজরে, যাকে বাংলাদেশ সফরে নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
ভারতীয় ফুটবলের অবস্থা এখন মোটেও স্বস্তিকর নয়—দেশের শীর্ষ লিগ মাঠে গড়ানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে খালিদ আশাবাদী, “লিগ নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। আমাদের কাজ দেশের জন্য সেরাটা দেওয়া।”
সুনীল ছেত্রির প্রসঙ্গে ভারতীয় কোচ বলেন, “সুনীল একজন আদর্শ। তাঁর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা আর গোল করার ক্ষুধা অনুকরণীয়। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।” দেশের হয়ে ইতিমধ্যে ৯৫ গোল করা এই কিংবদন্তি বাংলাদেশের বিপক্ষেও একাধিকবার জালের দেখা পেয়েছেন।
বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের অবস্থান ১৩৬তম। তবে কোচ খালিদের চোখ এখন কেবল জয়ের দিকে—“র্যাঙ্কিং নিয়ে ভাবার সময় নয়। কয়েকটা জয়ই সব পাল্টে দিতে পারে। বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের কোনো সুযোগ নেই।”
প্রথম পর্বে ভারতের মাঠে বাংলাদেশ গোলশূন্য ড্র করেছিল। বাছাইপর্বের ‘সি’ গ্রুপে সমান দুই পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত এখন যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে। গোল পার্থক্যে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। তাই ১৮ নভেম্বরের ম্যাচ দুই দলের জন্যই মর্যাদা রক্ষার লড়াই হয়ে উঠছে।
অস্ট্রেলিয়ার গতির ঝড়ে উড়ে গেল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত
'বিশ্বাসঘাতক' লাপোর্তার বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে নামছেন মেসি 