সাইবার নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত মোবাইলের সিম অপব্যবহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
আজ শনিবার (০১ নভেম্বর) থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ১০টির বেশি সিম ব্যবহারের অনুমতি থাকছে না। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকে দেয়া হয়েছে। এ কারণে প্রায় অর্ধকোটি বা ৫০ লাখ সিম বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর থেকে গ্রাহকপ্রতি নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা আরও কমিয়ে পাঁচটিতে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অক্টোবর মাসে বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবি আজিয়াটার ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং টেলিটকের ৬৬ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৯৯ লাখ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে এই সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৯৬ লাখ, ২০২২ সালে ১৮ কোটি ১৬ লাখ এবং ২০২১ সালে ১৮ কোটি ১৩ লাখ।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ বছরে দেশে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি। ২০১৫ সালে সিম ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৩৭ লাখ। পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটিতে।
সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। বাংলাদেশের চেয়ে কম সিম ব্যবহারকারী রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশে।
সিমের অপব্যবহার রোধে গত আগস্টে বিটিআরসি এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে নিজ দায়িত্বে বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তনের নোটিস দেয়।
বিটিআরসির এক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে ২৬ কোটি ৬৩ লাখ নিবন্ধিত সিম রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয়। গত আগস্ট পর্যন্ত সক্রিয় এক ব্যক্তির ১০টির বেশি সিম ছিল ৬৭ লাখ। গত তিন মাসে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। বাকি রয়েছে ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম। সেগুলো সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের মাধ্যমে বাতিল করা হবে।
