ইউজিসির আপত্তিও উপেক্ষিত

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৩১ এএম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অধ্যাপক পদে চলমান পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে অডিট আপত্তি তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি পরিদর্শনে আসা ইউজিসির বাজেট টিম ১৭টি অনিয়ম চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ কোটি টাকা বাজেট আটকে দিয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি আপত্তি পদোন্নতি ও নিয়োগসংক্রান্ত এবং চারটি রেজিস্ট্রার পদসংক্রান্ত। তবে ইউজিসির এ আপত্তি উপেক্ষা করে উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম পদোন্নতি বোর্ডের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি বোর্ড শুরু হয়। ইতিমধ্যে অধিকাংশ বিভাগের বোর্ড সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের বোর্ড বসার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়। এর আগে গত ১৬ অক্টোবর দেশ রূপান্তরে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’খ্যাত শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ইউজিসির নজরে আসে। ২২ অক্টোবর ইউজিসির তিন সদস্যের বাজেট টিম পরিদর্শনে এসে ১৭টি আপত্তি উত্থাপন করে। ইউজিসির অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, ববিতে ২৪টি অধ্যাপক পদে আপগ্রেডেশন চলমান। এর মধ্যে গণিত (দুটি), মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান (একটি), ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ (দুটি), লোকপ্রশাসন (একটি), সমাজবিজ্ঞান (দুটি) ও মার্কেটিং (একটি) বিভাগের নয়টি পদের ইউজিসির অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু এই নয়টি পদের বিপরীতে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই সাতজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লোকপ্রশাসন, সমাজবিজ্ঞান, গণিত, মৃত্তিকা ও মার্কেটিং বিভাগে যথাক্রমে এক, এক, দুই, এক ও একজন প্রভাষক নিয়োগ পেয়েছেন। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে দুটি পদের বিপরীতে একজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়।

ইউজিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৪টি পদের মধ্যে মাত্র দুটি শূন্যপদ ছাড়া ইউজিসির কোনো অনুমোদিত পদ নেই। নয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে পদ ব্লক করে সাতজন প্রভাষক নিয়োগ নিয়মবহির্ভূত। একইভাবে ব্লক করা এই সাতটি পদে পুনরায় আপগ্রেডেশন দেওয়াও নিয়মসিদ্ধ নয়। অবশিষ্ট দুটি শূন্যপদের জন্য ইউজিসির অনাপত্তি নিয়ে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ না দিয়ে আপগ্রেডেশন দেওয়ার সুযোগ নেই।

এ ছাড়া চলতি বছর ৭ জুলাই প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১০ জন প্রভাষক নিয়োগ নিয়েও আপত্তি তুলেছে ইউজিসি। এর মধ্যে ছয়টি পদে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনুমোদন নেই। বাকি চারটি পদে অনুমোদন থাকলেও সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায় নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের পদোন্নতি ত্বরান্বিত করতে উপাচার্য তড়িঘড়ি করে ১০টি প্রভাষক পদে পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। গত বছর ৬ মার্চ ও ২ জুন দুই দফায় ৫১টি প্রভাষক পদের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও মাত্র ১০টি পদে পুনঃবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

১০ কোটি টাকা আটকে দিল ইউজিসি : ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ববির মোট বাজেট বরাদ্দ ছিল প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমে ৫৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অডিট আপত্তির কারণে ইউজিসি প্রায় ১০ কোটি টাকা আটকে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হলোÑ অনুমতিহীন দৈনিক মজুরি কর্মচারীদের জন্য ৮৪ লাখ, বিআরটিসি বাস ভাড়া ১ কোটি ৭২ লাখ, আবাসিক ভবন ভাড়া ১৪.৫ লাখ, আউটসোর্সিং ১০ লাখ, শ্রমিক মজুরি ৮ লাখ, আনসার নিয়োগ ৯০ লাখ, পরিবহন ব্যয় ২ কোটি ৭৬ লাখ এবং যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রমে ২১ লাখ টাকা।

ববির অর্থ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২২ অক্টোবর হঠাৎ পরিদর্শনে আসা ইউজিসি টিমের আপত্তির জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ওয়ার্কিং কমিটি প্রতিবাদ জানালেও তা গৃহীত হয়নি। অর্থ দপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আতিকুর রহমান বলেন, ‘ইউজিসির রিপোর্ট উপাচার্যের কাছে আছে। ১০ কোটি টাকা আটকে যাওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘ইউজিসি যা বলবে আমরা মানতে বাধ্য। তবে লিখিত অডিট আপত্তি এখনো পাইনি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আপত্তি থাকলে ইউজিসির সঙ্গে মিটিংয়ে সমাধান করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত