প্রায় ৩৫০০ বছর আগেকার একটি চুরি যাওয়া ভাস্কর্য মিশরে ফিরিয়ে দেবে নেদারল্যান্ডস। ডাচ ইনফরমেশন অ্যান্ড হেরিটেজ ইন্সপেক্টরেটের মতে, ফারাওদের আমলের এই পাথরের মাথাটি ‘খুব সম্ভবত’ ২০১১ অথবা ২০১২ সালে আরব বসন্তের সময় লুট হয়েছিল।
নেদারল্যান্ডসের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ডিক শুফ গত সপ্তাহান্তে গিজায় প্রত্নতাত্ত্বিক গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এটি ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
নেদারল্যান্ডস সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভাস্কর্যটি ফারাও তৃতীয় থুতমোসের রাজবংশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার। এটি ‘মিশরের পরিচয়ের জন্য গভীর তাৎপর্যপূর্ণ’। চুরির এক দশক পর, ২০২২ সালে মাস্ট্রিচটের একটি শিল্প ও প্রাচীন সামগ্রীর মেলায় ভাস্কর্যটি দেখতে পাওয়া যায়। একটি বেনামি তথ্যের ভিত্তিতে ডাচ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে এটি চুরি হয়েছে এবং অবৈধভাবে রপ্তানি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে তার অবৈধ উৎস সম্পর্কে জানানো হলে ডিলার স্বেচ্ছায় ভাস্কর্যটি হস্তান্তর করেন।
সরকার জানিয়েছে, তারা এই বছরের শেষে নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত মিশরীয় রাষ্ট্রদূতের কাছে পাথরের মাথাটি হস্তান্তর করবে বলে আশা করছে।
নেদারল্যান্ডস সরকার আরও বলেছে, ‘ঐতিহ্যকে তার আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নেদারল্যান্ডস জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এই সংবাদটি এমন সময়ে এলো, যখন মিশর গত সপ্তাহান্তে তার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য প্রদর্শনের জন্য সুবিশাল গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের উদ্বোধন উদযাপন করল।
১৯৯২ সালে প্রথম প্রস্তাবিত হলেও আরব বসন্তের কারণে এই মিউজিয়ামের নির্মাণ কাজ ব্যাহত হয়েছিল। প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার (৯১০ মিলিয়ন পাউন্ড) ব্যয়ে নির্মিত এই সুবিশাল কেন্দ্রে এক লাখ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বালক রাজা তুতানখামেনের অক্ষত সমাধির সম্পূর্ণ সামগ্রী এবং তাঁর বিখ্যাত সোনার মুখোশ।
প্রখ্যাত মিশরবিদ্যা বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই মিউজিয়ামের উদ্বোধন অন্যান্য দেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন সামগ্রী ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিকে আরও জোরদার করবে। এই ধরনের প্রত্নসামগ্রীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রোজেটা স্টোন, যা হায়ারোগ্লিফিক্স পাঠোদ্ধারের মূল চাবিকাঠি এবং বর্তমানে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছে।
জামায়াতের আমিরকে চরমোনাই পীরের শুভেচ্ছা
অভিবাসন অভিযান আরও কঠোর করার নির্দেশ ট্রাম্পের