তেহরানে ভয়াবহ পানিসংকট, শুকাতে পারে প্রধান জলাধারও

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫০ এএম

তেহরানের পানির প্রধান উৎস দুই সপ্তাহের মধ্যে শুকিয়ে যেতে পারে বলে রবিবার (২ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সতর্ক করেছে। খরাকে এই সংকটের জন্য দায়ী করা হয়েছে।

রাজধানীর পানি সরবরাহ সংস্থার প্রধান বেহজাদ পারসার বরাত দিয়ে আইআরএনএ জানায়, তেহরানের পানীয় জলের চাহিদা মেটানো পাঁচটি বাঁধের একটি আমির কবির বাঁধে মাত্র ১৪ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি রয়েছে। এটি বাঁধটির মোট ধারণক্ষমতার মাত্র আট শতাংশ।

পারসা বলেন, এই পরিমাণ পানি দিয়ে আর মাত্র দুই সপ্তাহ রাজধানীতে সরবরাহ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। তেহরান মহানগরীতে এক কোটিরও বেশি মানুষের বাস। আলবোর্জ পর্বতমালার দক্ষিণ ঢালে অবস্থিত এই শহর সাধারণত বরফে ঢাকা থাকে। ৫ হাজার ৬০০ মিটার (১৮ হাজার ফুট) উঁচু এই পর্বতশ্রেণী থেকে নেমে আসা নদীগুলোই বিভিন্ন জলাধারকে পানি জোগায়।

কিন্তু ইরান এখন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখোমুখি।

গত মাসে এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, তেহরান প্রদেশে গত এক শ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। পারসা বলেন, গত বছর এই সময়ে আমির কবির বাঁধে ৮৬ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি ছিল। কিন্তু তেহরান অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শতভাগ কমেছে। তবে অন্য বাঁধগুলোর অবস্থা কেমন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের জনগণ প্রতিদিন প্রায় তিন মিলিয়ন ঘনমিটার পানি ব্যবহার করে থাকে।

পানিসংকট মোকাবিলায় সম্প্রতি শহরের কিছু এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া এই গ্রীষ্মে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটও দেখা দিচ্ছে।

জুলাই ও আগস্টে পানি ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যেই তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় প্রতিদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনার চেয়ে বাস্তবের পানিসংকট অনেক বেশি গুরুতর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত