নবীনগরে গোলাগুলিতে আহত চার, দুজনের মৃত্যু

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০১ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে দুই পক্ষের মধ্যে দুই দফা গোলাগুলিতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিপন মিয়া ও ইয়াছিন মারা যান। বাকি দুজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গণিশাহ মাজার সংলগ্ন বাজারের একটি হোটেলে রাত ৮টার দিকে এলাকার কুখ্যাত ডাকাত মনেক মিয়া ওরফে মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া (৩০) আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একদল অস্ত্রধারী হঠাৎ হোটেলে প্রবেশ করে গুলি চালায়। এতে শিপন মিয়া, হোটেলকর্মী ইয়াছিন (২০) ও নূর আলম (১৮) গুলিবিদ্ধ হন।

গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর মনেক ডাকাতের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ এমরান হোসেন মাস্টারের অফিসে হামলা চালায়। এ সময় মনেকের লোকজনের ছোড়া গুলিতে এমরান মাস্টার (৩৮) আহত হন। তিনি ঢাকায় কর্মরত পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই এবং শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এরপর বিক্ষুব্ধ লোকজন থোল্লাকান্দি গ্রামে হামলা চালিয়ে একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

আহত চারজনকে রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে শিপন মিয়া ও মাথায় গুলিবিদ্ধ ইয়াছিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নবীনগর থানার ওসি শাহীনুর ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মনেক গ্রুপের সদস্য রিফাত সোহাগ একসময় একই দলের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে বিরোধের জেরে তিনি আলাদা গ্রুপ গঠন করেন। এর জের ধরেই এ সংঘর্ষ ঘটে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত