ঐতিহ্যের স্বাদ ও শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গুড় সম্মেলন ২০২৫’। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘রস ও গুড়’-এর আয়োজনে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তা ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের সহযোগিতায় সম্মেলনের দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রায় ছয় শতাধিক গুড় উৎপাদনকারী, গাছি, উদ্যোক্তা ও গবেষক দিনব্যাপী এ সম্মেলনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের আপ্যায়নে পরিবেশন করা হয় খেজুর বিচি দিয়ে তৈরি চা। দুপুরের খাবারে মিষ্টান্ন হিসেবে ছিল নতুন খেজুর গুড়ের পায়েশ।
এ সময় বিভিন্ন স্টলে গুড় উৎপাদন, গবেষণা, বাজারজাতকরণ ও নানা ধরনের গুড়ের প্রদর্শনী করা হয়। প্রদর্শনীতে ছিল খেজুরপাতা দিয়ে তৈরি মসজিদ, জায়নামাজ, তসবীহসহ নানা পণ্য।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসআরআই-এর মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “হোয়াইট সুগার ও লবণ আসলে হোয়াইট পয়জন। আমাদের উচিত হোয়াইট সুগার বাদ দিয়ে গুড় বা ব্রাউন সুগার ব্যবহার করা। গুড় শরীরকে ঠান্ডা রাখে। চা, শরবত বা মিষ্টি জাতীয় খাবারে গুড় ব্যবহার করা যেতে পারে।”
উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছেন। চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। এতে যেমন নিজে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, তেমনি আরও অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবির ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ইয়ামিন হোসেন। তিনি বলেন, “চিনিযুক্ত গরম চায়ে প্রায় ২৭ ধরনের রাসায়নিক উৎপন্ন হয়, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু গুড়ে এমন কোনো ক্ষতি নেই। এটি অর্গানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত। তাই আমাদের গুড় ব্যবহারের প্রচলন বাড়াতে হবে।”
গবেষক ও উদ্যোক্তা সৈয়দ মুহাম্মদ মঈনুল আনোয়ার বলেন, “আমরা চাই, গুড়ের মতো সম্ভাবনাময় একটি শিল্পকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে। বিশুদ্ধ গুড় সরবরাহ এবং বিদেশে রপ্তানি করাই আমাদের লক্ষ্য।”
খেজুরগাছের বাণিজ্যিক দিক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “বিদেশ থেকে আমরা চীনা জায়নামাজ, মিসওয়াক, তসবীহসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করি। অথচ খেজুরগাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে আমরা দেশেই এসব পণ্যের চাহিদা পূরণ করতে পারি।”
প্রতারণা ঠেকাতে ভারত-বাংলাদেশের ভিসা গণহারে বাতিলের ক্ষমতা চায় কানাডা সরকার