সৌদির রাজধানী রিয়াদে আবারও শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিনোদন উৎসব, রিয়াদ সিজন ২০২৫। এই উৎসবের আলোকজ্জ্বল পরিবেশ, সংগীত, সংস্কৃতি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে রিয়াদ পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত শহরে, যেখানে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুযোগ।
২০১৯ সালে সূচনার পর থেকে রিয়াদ সিজন সৌদি বিনোদন শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। এটি সরাসরি দেশটির পর্যটন ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে এবং জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেলের বাইরে বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি সৃষ্টি করছে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা ছাড়াও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সৌদিকে বৈশ্বিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এই উৎসব।
উৎসব আয়োজকরা জানিয়েছেন, অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন আগামী মার্চ পর্যন্ত চলবে। এতে থাকবে শতাধিক প্রধান আকর্ষণ, ৭ হাজার অনুষ্ঠান, ১৫টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং ৩৪টি বড় উৎসব। গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে ২ কোটিরও বেশি দর্শনার্থী অংশ নিয়েছিলেন; এবার এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চমকপ্রদ উদ্বোধন
১০ অক্টোবর কিং আবদুল আজিজ রোডে উৎসবের সূচনা হয়েছিল বর্ণাঢ্য প্যারেডের মাধ্যমে। সেখানে ছিল ২৫টি বড় ভাস্কর্য (ফ্লোট), ২৫টি বিশাল বেলুন এবং ৩ হাজারেরও বেশি শিল্পী ও নৃত্যশিল্পী। পুরো শহর আলো, সংগীত ও রঙের উৎসবে রঙিন হয়ে ওঠে। উদ্বোধনী প্যারেডে যুক্ত হয়েছিল মার্কিন মেসি’স প্যারেড দ্বারা অনুপ্রাণিত বিশাল বেলুন প্রদর্শনী, যা সৌদি আরবের ইতিহাসে এক অভিনব সংযোজন।
পরিবারের জন্য বিশেষ আয়োজন
বাংলাদেশি পরিবারদের জন্য সাজানো হয়েছে ফ্যামিলি জোন, যেখানে রয়েছে শিশু-বান্ধব রাইড, কার্টুন ও ম্যাজিক শো এবং বিভিন্ন হালাল খাবারের ব্যবস্থা। দর্শকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক বিনোদন অঞ্চলে নিয়োজিত রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী, চিকিৎসা কেন্দ্র ও পথনির্দেশ সেবা।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ বুলেভার্ড ওয়ার্ল্ড, যেখানে ২৪টি দেশের সংস্কৃতি, খাবার ও সংগীত প্রদর্শিত হয়। এ বছর নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত ও দক্ষিণ কোরিয়ার থিম অঞ্চল, যেখানে দর্শনার্থীরা ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত, নৃত্য ও খাবারের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। এখানে রয়েছে ৪০টি রাইড, ১২টি ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা, ১,৭০০টি দোকান এবং ৩৫০টি রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে।
আরেকটি বড় আকর্ষণ বিস্ট ল্যান্ড, জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিস্টারবিস্ট-এর অনুপ্রেরণায় তৈরি থিম পার্ক, যেখানে রয়েছে দুঃসাহসিক গেম, চ্যালেঞ্জ ও ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা। বড় কনসার্ট, পারফরম্যান্স ও ক্রীড়া ইভেন্টের মূল ভেন্যুগুলির মধ্যে রয়েছে সৌদি এরিনা ও মোহাম্মদ আবদু এরিনা।
বাংলাদেশ থেকে সহজ যাত্রা
ঢাকা থেকে রিয়াদে প্রতিদিন একাধিক সরাসরি ফ্লাইট চলছে, যা ভ্রমণকে আরও সহজ ও দ্রুত করেছে। এছাড়া সৌদি ভিসা প্রক্রিয়াও ঝামেলামুক্ত। বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ইতিমধ্যেই বিশেষ ফ্যামিলি প্যাকেজ প্রদান করছে, যেখানে বিমান ভাড়া, হোটেল ও ইভেন্ট পাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পর্যটকদের জন্য কিছু পরামর্শ
মরুর আবহাওয়া গরম, তাই আরামদায়ক পোশাক পরুন। অনুষ্ঠানবহুল এলাকায় লম্বা লাইনের ঝামেলা এড়াতে আগেভাগে টিকিট বা ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করুন। শহরের পরিবহন আগেভাগে পরিকল্পনা করুন। স্থানীয় নিয়ম ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখান, বিশেষ করে পোশাক ও আচরণবিধিতে।
আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: https://www.visitsaudi.com/en
রিয়াদ সিজন সৌদি আরবকে বৈশ্বিক পর্যটনের মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যেখানে আরব আতিথেয়তার উষ্ণতা, বিশ্বমানের বিনোদন এবং সংস্কৃতির সমন্বয় পাওয়া যায়।
দুই মাসের মধ্যে সব ক্যাম্পাসে নির্বাচন দিতে হবে: সাদিক কায়েম
নীলফামারীতেই হচ্ছে চীন সরকারের এক হাজার শয্যার হাসপাতাল