অক্সফামের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ড্যাশবোর্ড উদ্বোধন 

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০৭ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি নথিভুক্ত করতে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ড্যাশবোর্ড উদ্বোধন করেছে অক্সফাম। এটি একটি ইন্টার‍্যাক্টিভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। যার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষ সরাসরি জল বায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য রিপোর্ট করতে পারবেন।

বুধবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, অক্সফাম অস্ট্রেলিয়া ও নোভিবের যৌথ উদ্যোগে এবং সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সির (সিডা) সহায়তায় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশের ১৯ জেলায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে মোট ১১,৫৭৯টি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা রেকর্ড করা হয়। এসব ঘটনার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১.৩৫ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির গড় ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। যা একজন গড় শ্রমিকের প্রায় ১৫ মাসের আয়ের সমান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনায় নারীরা স্বাস্থ্য ও জীবিকার দিক থেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন, বিশেষ করে পানি বাহিত রোগ ও পুষ্টি হীনতায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কক্সবাজার, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা ও সুনামগঞ্জ।

অক্সফামের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বের ধনী দেশগুলোর শীর্ষ ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের অর্ধেকেরও বেশি দায়ী হলেও ক্ষতির ভার বহন করছে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলো। 

বিশ্বব্যাংকের (২০২৪) তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত দুর্যোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়, যা দেশের মোট জিডিপির ১–২ শতাংশ। তবে সরকারি ও বেসরকারি হিসেবে এই ক্ষতির পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, এই ড্যাশবোর্ড দেখিয়েছে কীভাবে স্থানীয় জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ একত্রে বৈশ্বিক পরিবর্তন আনতে পারে। যখন নীতিতে কমিউনিটির কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হয়, তখন জলবায়ু ন্যায়বিচার আরও শক্তিশালী হয়।

অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অশীষ দামলে বলেন, এই ড্যাশবোর্ড কষ্টকে নীতিতে রূপান্তরিত করছে। এটি সত্যিকারের জলবায়ু ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অক্সফাম জানিয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ নিজেরাই তাদের ক্ষতির তথ্য তুলে ধরতে পারবেন, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু তহবিলের দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে।

অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ড. মোহাম্মদ ইমরান হাসান (অক্সফাম) এবং সঞ্চালনা করেন মো. সারিফুল ইসলাম (অক্সফাম)। এতে দেশি-বিদেশি জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও তরুণ জলবায়ু কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত