শেখ হাসিনার অধীনে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিতর্কিত ছিলও বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপালন (২০১৮ সাল) করা সাবেক সচিব আবদুল মান্নান।
শুক্রবার(৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের শুনানি শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপরোক্ত মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা সরকার আমলের এই আমলা। আগামীকাল (৮ নভেম্বর) এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনটি ভুয়া ভোটের কারিগরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অংশ হিসেবে উক্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের সদস্য তাজরিয়ান আকরাম হোসেন ও ড. মো. আব্দুল আলীম শুনানি গ্রহণ করেন।সাবেক সচিব আবদুল মান্নান ২০১৮ সালের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখন তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বর্তমানে অবসরে আছেন তিনি। নির্বাচন তদন্ত কমিশনের শুনানিতে তিনটি ভুয়া জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্বপালন করা একাধিক রিটার্নিং ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
শুনানিতে তদন্ত কমিশন কি কি জিজ্ঞাসা করেছেন এমন প্রশ্ন করলে সাবেক সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে যে এত অনিয়ম হলও আমি এতে কি করতে পেরেছি তদন্ত কমিশন এমন প্রশ্ন করেছেন। আমি তদন্ত কমিশনকে বলেছি, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। অনিয়মের কারণে আমি একটি ভোটকেন্দ্র বাতিল করেছি। আমি চেষ্টা করেছি। হয়তো আমি পুরোপুরি পারিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগ আমলে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিতর্কিত ছিলও বলে মন্তব্য করে সাবেক সচিব আবদুল মান্নান বলেন, অতীতে জাতীয় নির্বাচন করে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে আল্লাহ যেন ভবিষ্যতে আমাদের জাতিকে এরকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না করেন।
এদিকে চট্টগ্রামে ২০১৮ সালে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বর্তমানে বরিশালের জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয়ে এসে শুনানিতে অংশ না নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া ২০২৪-এর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল আহমেদ। বর্তমানে তিনিও অবসরে আছেন। তবে তিনি শুক্রবার নির্বাচন তদন্ত কমিশনের শুনানিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, আওয়ামী আমলে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনটি ভুয়া ভোটের কারিগরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দেওয়া সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে আগামীতে যেন আর কোনও সরকার ভুয়া ভোটের আয়োজন করতে না পারে সে লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাও তৈরি করা হবে। এদিকে ২০১৮-এর নির্বাচনে বাংলাদেশের যে কোনও সংসদীয় আসনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, অফিসার ইনচার্জ, উপ-পরিদর্শক মিলিয়ে কমপক্ষে ১০ জন কর্মকর্তাকে শুনানিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
